কুকুরের কামড়ে মৃত্যু, সেই গরুর দুধের প্রসাদ খাওয়ায় জলাতঙ্কের টিকা নিচ্ছে সকলে

পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) ডেবরার পাসঙ্গ গ্রামে ভয়াবহ জলাতঙ্ক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একটি গরুর দুধ দিয়ে বানানো প্রসাদ খেয়েছিলেন গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ। কিন্তু ঘটনার পরের দিনই ওই গরুটি মারা যায়। কুকুর কামড়ানোর ফলেই গরুটি মারা গিয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা জলাতঙ্কের টিকা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় করেন।

জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার পূর্ণিমা উপলক্ষে হৃষীকেশ মাইতির বাড়িতে পুজো ছিল। সেই পুজোতেই ওই গরুর দুধ দিয়ে প্রসাদ তৈরি করা হয়। গ্রামের বহু মানুষ ভক্তিভরে সেই প্রসাদ খেয়েছিলেন। কিন্তু সেই রাতেই গরুর শরীর খারাপ হয়। পরের দিন সকালে পশু চিকিৎসক এসে জানান, গরুটি সম্ভবত জলাতঙ্কে (Rabies) আক্রান্ত। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুটি মারা যায়।

গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। কারণ, হৃষীকেশবাবু স্থানীয় ডেয়ারি ফার্মে দুধ বিক্রি করতেন এবং গ্রামবাসীরাও তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত দুধ নিতেন।

💉 টিকা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লম্বা লাইন

আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ার পরেই গ্রামবাসীরা দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছোটেন জলাতঙ্কের টিকা নিতে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ২২২ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে মাইতি পরিবারের ১১ জন দেবরা হাসপাতালে গিয়ে টিকা নেন। এরপরই গ্রামবাসীরা দলে দলে ভিড় করেন।

গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোবিন্দ সামাই জানান, গরুটি মরে যাওয়ার পরই সবাই টিকা নিতে ছোটেন।

🛑 আসল সত্য কী?

তবে এত বড় আতঙ্কের মধ্যেও বড় খবর হলো— গরুটি আদৌ জলাতঙ্কের জন্য মারা গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। গ্রামবাসীরা যে দুধ দিয়ে রাম পূর্ণিমার প্রসাদ বানিয়েছিলেন, সেই দুধের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণও মেলেনি।

যদিও গ্রামবাসীদের আতঙ্ক এতটাই তীব্র ছিল যে, তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি।

এ প্রসঙ্গে জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসার অব হেলথ (CMOH) সৌম্যশঙ্কর সারাঙ্গি বলেন, “গ্রামবাসীরা খুবই আতঙ্কে ছিলেন এবং শনিবার দেবরা হাসপাতালে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের বোঝানো যায়নি। সেই কারণেই সকলকে সতর্কতা হিসেবে টিকা দেওয়া হয়েছে।”