কোচ-অধিনায়কের মতবিরোধ! অ্যাশেজে ২-০ পিছিয়ে ইংল্যান্ড, ম্যাকালামের মতে ‘অতিরিক্ত প্রস্তুতি’, স্টোকসের চোখে ‘দুর্বল ক্রিকেটার’

অ্যাশেজ হাতছাড়া হতে বসেছে ইংল্যান্ডের। পারথের পর ব্রিসবেনেও হারায় সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। এই বিপর্যয়ের পর ইংল্যান্ডের সাজঘরের কৌশল এবং প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম মনে করছেন, তারা অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন, যা হিতে বিপরীত হয়েছে। অন্যদিকে, অধিনায়ক বেন স্টোকস সরাসরি হারের দায় ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁর দলে দুর্বল মানসিকতার ক্রিকেটারদের কোনো জায়গা নেই।
অতিরিক্ত প্রস্তুতি না প্রস্তুতিহীনতা?
অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি নিয়ে বারবার সমালোচনা হয়েছে। ব্রিসবেনে দিন–রাতের টেস্টের আগে তারা প্রধানমন্ত্রী একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেননি। বরং পাঁচ দিন ধরে ব্রিসবেনেই অনুশীলন করেন। দলের তিন ক্রিকেটার এর আগে কখনও গোলাপি বলে খেলেননি, তা সত্ত্বেও প্রস্তুতি ম্যাচ এড়িয়ে যাওয়া হয়।
ব্রিসবেনে হেরে ম্যাকালাম অবশ্য এই পাঁচ দিনের প্রস্তুতিকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি বেশিই হয়ে গিয়েছে। কখনও কখনও বেশি প্রস্তুতিও হিতে বিপরীত হয়ে যায়। আমরা এত অনুশীলন করেছি যে, ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের মানসিক ও শারীরিক ভাবে চনমনে থাকা উচিত ছিল।” এরপরই তিনি কিছুটা হাল্কা মেজাজে বলেন, “আজ রাতে মদ্যপান করব। তার পর ভাবব, পরের ম্যাচের আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেব।”
তবে স্টোকসের বক্তব্য ম্যাকালামের সঙ্গে মেলেনি। স্টোকসের কথায় স্পষ্ট যে অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে এবং প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।
স্টোকসের কড়া বার্তা
কোচের বিপরীত অবস্থানে গিয়ে স্টোকস পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তাঁর দলে দুর্বল ক্রিকেটারদের কোনো জায়গা নেই। ম্যাচ হেরে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বলেন, “আমি যতদিন অধিনায়ক আছি, ততদিন এই দলে দুর্বল ক্রিকেটারদের জায়গা নেই। এই হারে আমি হতাশ। কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে পারিনি। চাপ সামলাতে পারিনি। তাহলে কীভাবে জিতব? আমাদের আরও সাহসী ক্রিকেট খেলতে হবে।”
স্টোকস বিশ্বাস করেন যে, তাঁর দলের প্রতিভা আছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতার। তবে তিনি হতাশ কারণ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হাত থেকে খেলা বেরিয়ে যাচ্ছে। স্টোকস বলেন, “আমাদের মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে হবে। আরও লড়াই করতে হবে। আমরা ০–২ পিছিয়ে রয়েছি। এখনও তিনটে টেস্ট বাকি। এই পরিস্থিতি থেকেও আমরা ফিরতে পারি। তবে তার জন্য লড়াই করতে হবে। আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।”