লাগাতার উত্যক্ত করত অভিযুক্ত, রাউরকেলার হাসপাতালে হার মানলেন ১৮ বছরের পড়ুয়া, গ্রেফতার অভিযুক্ত তরুণ

শেষ রক্ষা হলো না। শ্লীলতাহানি ও লাগাতার হেনস্থার শিকার হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ১৮ বছরের কলেজ ছাত্রীর জীবনাবসান হলো। ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। অবশেষে সোমবার সকালে রাউরকেলার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
উল্লেখযোগ্য, বিজেপি শাসিত রাজ্যে গত ছয় মাসে এই ধরনের ঘটনা এটি নিয়ে পঞ্চম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ছাত্রী ছিলেন সুন্দরগড় জেলার রাজগঙ্গাপুর কলেজের পড়ুয়া। শুক্রবারেই অভিযুক্ত তরুণ চলন্ত বাসে তরুণীর শ্লীলতাহানি করে এবং হুমকিও দেয়। একটানা হেনস্থার জেরেই অপমানে সেদিন রাতে বাড়িতে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই ছাত্রী।
লাগাতার হেনস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণ (২৫ বছর বয়সী কলেজ ছাত্র) গত দুই বছর ধরে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করত। কখনও বাসে শ্লীলতাহানি, আবার কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন মেসেজ পাঠাত। গত কয়েক সপ্তাহে হেনস্থার মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছিল।
শুক্রবার রাতে লাঞ্জিবর্না এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। চিৎকারের শব্দে তাঁদের ঘুম ভাঙে। দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রীকে ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ইস্পাত জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। আজ চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধ কলেজ ছাত্রীর অধিকাংশ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে গিয়েছিল।
ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার আগে একজন ফোন করে তাকে হুমকি দিয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে।
রাজ্যে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাসে ওড়িশায় এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর আগে গত ১১ আগস্ট, বালেশ্বর, বালাঙ্গা ও কেন্দ্রপাড়ার পর এবার ওড়িশার বারগড় জেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছিল। এছাড়া গত মাসে কেন্দ্রপাড়ায় আরও এক কলেজ ছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১২ জুলাই বালেশ্বরের ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে এক বি.এড ছাত্রী এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানানোর পরও কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মঘাতী হন।