বাটানগরের ১৪ বছরের স্বর্ণায়ন পাল এখন স্কুল ক্রিকেটের নতুন তারকা, ৩ ম্যাচে ৪৯৮ রান

‘শেষ ভালো যাঁর, সব ভালো তাঁর’—এই আপ্তবাক্যটি এখন যেন ভারতীয় ক্রিকেটের উদীয়মান তারকাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বাটানগরের ১৪ বছরের ছেলে স্বর্ণায়ন পাল স্কুল ক্রিকেটে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছে। মেয়র্স কাপে এখনও পর্যন্ত মাত্র তিনটি ম্যাচে তার ঝুলিতে ৪৯৮ রান। বিবিআইটি পাবলিক স্কুলের এই ছাত্র প্রথমবার মেয়র্স কাপ খেলতে এসেই তার স্কুলকে নকআউটে পৌঁছে দিয়েছে। সিএবি লিগের এই স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলার প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের উঠে আসার মঞ্চ, আর সেখানেই স্বর্ণায়নের এই পারফরম্যান্স সকলকে চমকে দিচ্ছে।

দুই ডাবল সেঞ্চুরি: ব্যাটিংয়ে পরিণত মনস্কতা

স্বর্ণায়ন তার প্রথম ম্যাচেই বারুইপুর হাইস্কুলের বিরুদ্ধে ডাবল সেঞ্চুরি করে (অপরাজিত ২০৪ রান)। ডন বস্কোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে ২৬ রানে আউট হলেও, তৃতীয় ম্যাচেই আবার ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকায়। সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বিরুদ্ধে তার অপরাজিত ২৬৮ রানের ইনিংসে দলের স্কোর যখন ৩৩৭, সেখানে স্বর্ণায়নের একার অবদান ২৬৮!

মাত্র ১৪ বছর বয়সে এমন পরিণত ব্যাটিংয়ের রহস্য লুকিয়ে আছে তার জীবনযুদ্ধে। ক্লাস টুয়ে পড়ার সময় স্বর্ণায়নের বাবা মারা যান। তার মা জানান, “ওর বাবা ফুটবল খেলত, ছেলেরও সেদিকে আগ্রহ ছিল। তিন বছর আগে বাড়ির পাশে একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তৈরি হয়। আমিই জোর করে ওকে ক্রিকেটে ভর্তি করাই। ক্রিকেট শেখাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হলেও, কোচিং সেন্টারের স্যারেরা ওকে অনেক সাহায্য করেছেন।” মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে ক্রিকেটে হাতেখড়ি হওয়া এই ছেলে তিন বছরেই নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেছে।

কোচের চোখে ‘এক্স ফ্যাক্টর’

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ স্পিনও করে স্বর্ণায়ন। কোচ অভিষেক নন্দীর কথায়, “ও প্রতিভাবান ছেলে। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে উচ্চ পর্যায়ে খেলার ক্ষমতা রাখে। মেয়র্স কাপে দুটো ডাবল সেঞ্চুরিতেই ও স্কোরবোর্ডকে লিড করেছে। রান তাড়া করতে ভালোবাসে এবং চাপ নিয়ে খেলতে পারে। এটাই ওর এক্স ফ্যাক্টর। এত কম বয়সে এরকম পরিণত ব্যাটিং সচরাচর দেখা যায় না। ডাকাবুকো মনোভাব আর পরিণত ব্যাটিং ওর কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”

বিরাট কোহলির অন্ধ ভক্ত স্বর্ণায়নের মা চান, ছেলে আরও পরিশ্রম করুক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01