‘কোচিংনির্ভর বাণিজ্যকে শক্তিশালী করছে পরীক্ষা পদ্ধতি’, সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন

জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষাগুলিতে প্রশ্নফাঁস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনা নিয়ে যখন দেশজুড়ে প্রবল বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময়ই সংসদের স্থায়ী কমিটি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে দিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, কেন স্কুলের পাঠ্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে পরীক্ষার সিলেবাস অন্য পথে হাঁটছে এবং এই পরিবর্তন কি কোচিং-কেন্দ্রিক ব্যবসাকেই শক্তিশালী করছে?

কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণ, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) পরিচালিত বহু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এখন আর স্কুলের কারিকুলামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি হয় না। এর ফলে যে ছাত্রছাত্রীরা অতিরিক্ত কোচিং নেওয়ার সামর্থ্য রাখে না, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কমিটির মতে, এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সমান সুযোগের নীতি ভঙ্গ করছে।

খাতা-কলমের পরীক্ষায় ফিরতে হবে, CBT শুধু সরকারি কেন্দ্রে

প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা নিয়েও সংসদীয় কমিটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্র প্রযুক্তিনির্ভর CBT (Computer Based Test)-কে এগিয়ে রাখতে চাইলেও কমিটির বক্তব্য—খাতা-কলম পরীক্ষার ঝুঁকি চোখে দেখা যায়, কিন্তু CBT পরীক্ষায় হ্যাকিংয়ের বিপদ গভীর ও অদৃশ্য।

কমিটি সুপারিশ করেছে যে, এনটিএ-র উচিত ইউপিএসসি (UPSC) ও সিবিএসই (CBSE)-এর মতো সংস্থাগুলির উদাহরণ মেনে আবার কাগজ-কলম মডেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যদি CBT হয়ও, তবে তা যেন কেবলমাত্র সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন পরীক্ষাকেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হয়, বেসরকারি কেন্দ্রে নয়।

NEET বিতর্কের পর ভরসা ফেরানোই জরুরি

গত বছরের NEET পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, এনটিএ-র ১৪টি পরীক্ষার মধ্যে ৫টিতে বড়সড় ত্রুটি দেখা গিয়েছিল এবং তিনটি পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছিল। তাই পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটির মূল প্রশ্ন হলো, স্কুলের কারিকুলাম থেকে সিলেবাস সরিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে আলাদা পথে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি সরাসরি কোচিং ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে প্রভাবিত সিদ্ধান্ত।

৪৪৮ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত: তহবিলের স্বচ্ছতা দাবি

গত ছ’বছরে পরীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে এনটিএ প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আয় করেছে। কমিটির প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থ এখন কোথায় ব্যবহার হচ্ছে? তাদের সুপারিশ—এই তহবিল স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা-নিরাপত্তা, নিজস্ব সার্ভার তৈরি এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি ইত্যাদিতে ব্যয় করতে হবে।

এছাড়াও, CUET ফলপ্রকাশে দেরি হওয়ায় অ্যাকাডেমিক বর্ষ পিছিয়ে যাচ্ছে বলে কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং কোচিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণে উচ্চস্তরের কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে। NAAC-এ ঘুষের অভিযোগের প্রেক্ষিতেও অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় প্যানেল।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01