সীমান্তে হয়রানি বরদাস্ত নয়! পুলিশকে ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ হওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব আবাস-SIR নিয়ে

কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রশাসনিক সভা থেকে সোমবার রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের পুলিশ এত ভীতু হলে চলবে না। মারপিট করতে বলছি না। নাকা চেকিং ঠিক করে করুন।” তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “বর্ডার জেলাগুলোতে অযথা মানুষের উপর অত্যাচার বা এনআরসি-র নামে ভীতি প্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি পুলিশকে “প্রো-অ্যাক্টিভ” থাকতে নির্দেশ দেন এবং বলেন, “ভোরের দিকে যত গণ্ডগোল করার প্ল্যান থাকে। কখনও বলবেন না, নো অ্যাক্টিভ। প্রো-অ্যাক্টিভ মাথায় রেখে কাজ করুন।”

ডিটেনশন ক্যাম্প ও ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ:

রাজবংশী ও কামতাপুরীদের অভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে, আমি থাকতে ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। অসম সরকারের কোনও অধিকার নেই বাংলার লোককে চিঠি পাঠানোর।” তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, অন্য রাজ্য থেকে যাতে কেউ গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে না-পারে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে কোনও অপরাধীকে সাহায্য করা হবে না।

ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন (SIR) নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে মমতা বলেন, “ডবল ইঞ্জিনের পার্টি কোটি কোটি টাকা খরচ করে নেগেটিভ বিষয়ে প্রচার করছে। দু’মাসের মধ্যে SIR করতে হবে! সংবিধানকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।” সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করতে আগামী ১২ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে ‘মে আই হেল্প ইউ’ বুথ চালুর কথা ফের মনে করিয়ে দেন তিনি। এই বুথগুলি বিএসকে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনে সাহায্য করবে।

আবাস যোজনার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে:

কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ‘আটকে রাখা’ নিয়ে এদিন ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দিল্লি ভাতের হাঁড়ি ভাঙতে পারে, কিন্তু বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ করতে পারবে না।” তিনি ঘোষণা করেন, বাংলা আবাস যোজনায় অনুমোদিত প্রায় ১৬ লক্ষ বাড়ির জন্য আর কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বাকি টাকা দেওয়া হবে জুন মাসে।

এছাড়াও, এদিন উত্তরবঙ্গের জন্য মোট ৬৯৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, মালদা, দুই দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ার মিলিয়ে এই প্রকল্পগুলির মোট বরাদ্দ ১৮৬৩ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। রাস্তাঘাট (পথশ্রী) এবং পানীয় জলের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে ‘সবুজ সাথী’ এবং ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াকফ প্রসঙ্গেও তিনি সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে সমর্থন করতে বলেন।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01