টাকার পাহাড়! মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের দানপাত্র উপচে পড়ল, ১২ বস্তা টাকা গুনতে হিমশিম খাচ্ছেন ৩০ জন!

মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জন্য রাখা দানবাক্সে উপচে পড়েছে অর্থের স্রোত। এই বিপুল পরিমাণ দান গোনার জন্য মোট ১২টি ট্রাঙ্ক ও বস্তা জড়ো করা হয়েছিল, যা গুনতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রায় ৩০ জন মানুষ।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, টাকা গোনার কাজে মোট ১২টি ট্রাঙ্ক ও বস্তা ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম ৬টি ট্রাঙ্ক ও বস্তার টাকা গোনার কাজ শেষ হয়েছে। গোনা হওয়া এই অর্থের মূল্য ৩৭ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। আরও ৬টি ট্রাঙ্ক ও বস্তার টাকা গোনা এখনও বাকি রয়েছে।

হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, শুধুমাত্র ব্যাঙ্কেই ইতিমধ্যেই ২ কোটি ১০ লক্ষের বেশি টাকা জমা পড়েছে। এই বিপুল দান গোনার জন্য প্রায় ৩০ জন লোককে নিয়োগ করা হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই যন্ত্র দিয়ে টাকা গোনার কাজ চলছে। জানা গিয়েছে, টাকা গোনার মেশিন বিকল হয়ে যাওয়ায় মাঝে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং পরে আরও মেশিন আনা হয়।

দান বাক্সে বিদেশি মুদ্রা ও নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ

মসজিদ কমিটি সূত্রে খবর, দানবাক্সে কেবল ভারতীয় মুদ্রাই নয়, সৌদি আরবের রিয়েল, মালয়েশিয়ার টাকা এবং বাংলাদেশের টাকা সহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও জমা পড়েছে। সেগুলি আলাদা করে রাখা হয়েছে।

এদিকে, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে প্রস্তাবিত ৩ কাঠা জমিতে মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে নির্মাণ সামগ্রী জমা পড়তে শুরু করেছে। ইটের স্তূপ, লোহার রড, বালি এবং টন টন সিমেন্ট সেখানে দেখা যাচ্ছে। হুমায়ুন কবীরের আবেদনে এতটাই সাড়া পড়েছে যে, পার্শ্ববর্তী ইটভাটাগুলিতে ইটের আকাল দেখা দিয়েছে—ইট কিনতে গিয়ে অনেকেই তা পাননি বলে খবর।

হুমায়ুন কবীরের রেজিনগরের বাড়িতে আজও বহু মানুষ গাড়ি নিয়ে এসে দানসামগ্রী দিয়ে যাচ্ছেন। সব অর্থ একত্রিত করে শিগগিরই ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হবে বলে কমিটি জানিয়েছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01