ঘরে বসেই পড়ুন ‘ভগবত গীতা-রামায়ণ’! সারা বিশ্বের গবেষকদের জন্য গৌড়ীয় মিশনের লাইব্রেরি এবার অনলাইন!

গৌড়ীয় বৈষ্ণব গ্রন্থ, পত্রিকা, পত্রাবলী এবং পাণ্ডুলিপির অন্যতম আকর স্থান হিসেবে পরিচিত বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন গ্রন্থাগার এবার ডিজিটাল হলো। বৈষ্ণব অনুরাগী পাঠক, ভক্ত, ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক সহ সারা বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছে সমস্ত গ্রন্থ সহজলভ্য করতে বাগবাজার গৌড়ীয় মিশনে একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল লাইব্রেরির শুভ উদ্বোধন করা হলো।

এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করেছে ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার। গৌড়ীয় মঠের আচার্য্য ভক্তি সুন্দর সন্নাসী মহারাজ এই ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। এখন থেকে পাঠকরা gaudiyamissionbooks.com নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সমৃদ্ধ ডিজিটাল গ্রন্থাগারের নাগাল পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ট্রাস্টি এবং ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র, এশিয়াটিক সোসাইটির এডমিনিস্ট্রেটর কর্নেল অনন্ত সিনহা এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা ড. তিন্নি গোস্বামী।

ঐতিহ্যকে বাঁচানোর ডিজিটাল বিপ্লব

গৌড়ীয় মঠের সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্নাসী মহারাজ বলেন, গৌড়ীয় মিশন হলো শ্রীমদ ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠিত একটি শুদ্ধ ভক্তির প্রতিষ্ঠান। এখানকার গ্রন্থাগার অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যেখানে গৌড়ীয় বৈষ্ণব বিষয়ক বহু গ্রন্থ, ভগবত গীতা, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ সহ বহু দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপিও রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সারা বিশ্বব্যাপী পুরনো ঐতিহ্য ও গ্রন্থগুলিকে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে বাঁচানোর এক বিপ্লব শুরু হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মধুসূদন মহারাজের তত্ত্বাবধানে এই দুষ্প্রাপ্য বইগুলি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলো। গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র, সাধারণ পাঠক—সকলেই এবার ঘরে বসে এই ডিজিটাল গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারবেন। ভক্তিসিন্ধান্ত সরস্বতী প্রভুপাদের ১৫০ বছরের জন্মবার্ষিকীতে এই ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধনকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র বলেন, গৌড়ীয় মিশনের বই ডিজিটাইজ হওয়ায় একদিকে যেমন গৌড়ীয় গ্রন্থ ছাত্র, গবেষক, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবে, তেমনি আগামী দিনে গৌড়ীয় বিষয়ক গবেষণার কাজও আরও গতি পাবে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01