২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত! আম্বেদকরের সেই স্বপ্নই পূরণ করছেন মোদী? দেখুন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বিগত এক দশকে ভারতে এক বিশাল সামাজিক পরিবর্তন এসেছে—প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছেন। এই বিপুল পরিবর্তনকেই সংবিধান প্রণেতা ডঃ বি আর আম্বেদকরের স্বপ্নের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক এবং বিশেষজ্ঞ মহল। আম্বেদকর সংবিধানের মাধ্যমে গরিব মানুষের জীবনের উন্নতি ঘটাতে চেয়েছিলেন, আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনে সেই স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আম্বেদকর যেমন সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা ও সম্মানের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর আদর্শগত লক্ষ্যও একই। তাঁর বহুল প্রচারিত “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস” উদ্যোগ দেশকে সেই গণতান্ত্রিক পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আম্বেদকরকে সম্মানিত মোদী:

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদী আম্বেদকরের আদর্শকে সামনে রেখে শিক্ষা, আবাসন, স্যানিটেশন এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে শতাধিক প্রকল্প শুরু করেছিলেন। সেই সময়ে তিনি আম্বেদকর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বাবাসাহেবের মূর্তি উন্মোচন এবং সংবিধান যাত্রা-র আয়োজন করেছিলেন। এমনকি ২০০৭ সালে আম্বেদকর জয়ন্তীর দিনই তিনি ‘স্বচ্ছ গুজরাট মহা অভিযান’-এর সূচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও নরেন্দ্র মোদী নানা কাজের মাধ্যমে আম্বেদকরের জীবন ও দর্শনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাবাসাহেবের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি স্থানকে ‘পঞ্চ তীর্থ’ হিসেবে গড়ে তোলা, লন্ডনে আম্বেদকর মেমোরিয়াল তৈরি এবং দিল্লিতে ডঃ আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার স্থাপন। তাঁর কাজকে সম্মান জানাতেই ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান দিবস পালনের ঘোষণা করে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বহুবার ডঃ আম্বেদকরকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর অর্থনৈতিক দর্শন বর্তমান সময়ের সমস্যা সমাধানেও প্রাসঙ্গিক বলে জানিয়েছেন। জনজাতি ও উপজাতিদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে মোদী সরকার একাধিক প্রকল্প শুরু করেছে। বিশেষত, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অবলুপ্ত করে জম্মু-কাশ্মীরকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সেখানকার সংখ্যালঘুদের সমান সুযোগ দেওয়াকেও আম্বেদকরের সমতার দর্শনেরই প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।