শহীদ মেজর মোহিত শর্মার জীবন নিয়ে বিতর্ক: পরিবার অনুমতি ছাড়া সিনেমা তৈরির অভিযোগে মামলা দায়ের, কে ছিলেন এই অশোক চক্র জয়ী বীর?

রণবীর সিং অভিনীত আসন্ন সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অশোক চক্র এবং সেনা পদকপ্রাপ্ত শহীদ মেজর মোহিত শর্মার বাবা-মা এই সিনেমার মুক্তি স্থগিত করার জন্য মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, সিনেমাটির গল্প তাঁদের পুত্র, বিশেষ বাহিনীর অফিসার শহীদ মেজর মোহিত শর্মার জীবন এবং তাঁর গোপন অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু সিনেমা তৈরির জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী বা পরিবারের কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদিও পরিচালক আদিত্য ধর দাবি করেছেন, সিনেমাটি মেজর শর্মার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়।
কিন্তু কে ছিলেন এই বীর যোদ্ধা মেজর মোহিত শর্মা, যাঁর জীবন নিয়ে এত জল্পনা?
গুপ্তচর ‘ইফতিকার ভাট’: হিজবুল মুজাহিদিনে অনুপ্রবেশ
১৯৭৮ সালে হরিয়ানার রোহতকে জন্মগ্রহণ করেন মেজর মোহিত শর্মা। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস (প্যারা এসএফ)-এর একজন অফিসার ছিলেন, যা গোপন ও বিপজ্জনক মিশন পরিচালনা করার জন্য পরিচিত।
গোপন অভিযান: মেজর মোহিত তাঁর চাকরি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিশনে ২০০৪ সালে গোপনে হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠীতে অনুপ্রবেশ করেন। এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের জন্য তিনি ‘ইফতিকার ভাট’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন।
আস্থা অর্জন: জঙ্গিদের আস্থা অর্জন করার জন্য মোহিত চুল লম্বা করেছিলেন এবং তাদের কাছে ভুয়ো দাবি করেছিলেন যে তাঁর ভাইকে ভারতীয় সেনা মেরেছে, তাই তিনি সেনাকে ঘৃণা করেন। এভাবেই তিনি হিজবুলের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন। এই কাজের জন্য তিনি বীরত্বের জন্য সেনা পদক (Sena Medal) পেয়েছিলেন।
অশোক চক্র: দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সামরিক সম্মান
এই বিশেষ অভিযানের পাঁচ বছর পর, ২০০৯ সালের মার্চ মাসে, মেজর মোহিত শর্মা কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় একটি চূড়ান্ত অভিযানে নামেন। ঘন বনাঞ্চলে সেই মিশনের সময় জঙ্গিদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
বীরত্ব ও আত্মত্যাগ: চোট লাগা সত্ত্বেও মেজর মোহিত অভিযান থামাননি। তিনি তীব্র লড়াই চালিয়ে যান এবং সেই অভিযানে ৪ জন জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হন। বীরত্ব প্রদর্শনের পরই তিনি মারা যান।
মরণোত্তর সম্মান: তাঁর এই চরম বীরত্বের জন্য তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্রে (Ashok Chakra) ভূষিত করা হয়েছিল। শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে এটিই দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান।