চাপে পিছু হটতে বাধ্য কেন্দ্র! সমস্ত স্মার্টফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ প্রি-ইন্সটলেশনের নির্দেশ প্রত্যাহার! কেন নরম হলো মোদী সরকার?

দেশের সমস্ত স্মার্টফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ্লিকেশন বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-ইন্সটল করার যে নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকার দিয়েছিল, বুধবার প্রবল বিতর্কের মুখে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, “নাগরিকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আর এটিকে বাধ্যতামূলক করবার প্রয়োজন নেই।” সরকার মনে করছে, মানুষ এখন এমনিতেই এই অ্যাপ ব্যবহার করবে।
তবে বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে নরেন্দ্র মোদী সরকারের উপর চাপের ফল হিসেবে দেখছে। তাদের সরাসরি অভিযোগ ছিল, এই অ্যাপটি আসলে নাগরিকদের উপর গোপনে নজরদারি চালানোর একটি অপচেষ্টা। কংগ্রেস এই অ্যাপকে ‘স্নুপিং অ্যাপ’ আখ্যা দিয়ে বলেছিল, এটি আসলে পেগ্যাসাসের নবতম রূপ।
কেন নির্দেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্র?
টেলিকম দফতরের (ডিওটি) একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ বিভাগ এই নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য ‘অত্যাধিক চাপের’ মধ্যে ছিল।
আইনি পরামর্শ: কেন্দ্র যখন এই বিষয়ে কাজ করছিল, তখন আইনি সংস্থাগুলির সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কেন্দ্রকে জানানো হয় যে নির্দেশটি সাংবিধানিকভাবে টিকবে না।
অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের আপত্তি: রয়টার্স জানিয়েছে, দুই বৃহৎ মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাপল এবং স্যামসাং কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকরের বিষয়ে তাদের আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করার বার্তা দিয়েছিল।
মুছে ফেলার সুযোগ: কেন্দ্র একবার বলেছিল যে ব্যবহারকারী চাইলে এই অ্যাপটি মুছে ফেলতে পারবেন। তখনই স্পষ্ট হয় যে জালিয়াতি করতে চাইলে যে কেউ এটি মুছে ফেলবে, ফলে সুরক্ষা সরঞ্জাম হিসেবে এর কার্যকারিতা কমে যাবে।
‘সঞ্চার সাথী’ কী এবং কেন্দ্র কী বলেছিল?
‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপটি টেলিযোগাযোগ বিভাগের একটি ডিজিটাল সুরক্ষা সরঞ্জাম, যা ভারতে মোবাইল ফোন চুরির অপরাধ রোধ এবং হারিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়া ফোন ট্র্যাক ও পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে চালু হওয়া এই অ্যাপটি ভালো পারফর্ম করেছে বলে কেন্দ্র দাবি করেছে।
নির্দেশ প্রত্যাহারের ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় সম্প্রচার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া সংসদে জানিয়েছিলেন, এই অ্যাপ রাখা বাধ্যতামূলক নয় এবং গ্রাহকরা চাইলে তা ডিলিট করে দিতে পারেন। নজরদারির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সঞ্চার সাথী অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারি সম্ভব নয়, না কখনও সম্ভব হবে।” তিনি জোর দিয়েছিলেন, সাইবার সুরক্ষা দেওয়া ছাড়া সরকারের অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই।