বিধানসভা ভোটের আগে বড় চ্যালেঞ্জ! চাকরিহারা ২৬ হাজার ‘যোগ্য’ শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়াই এখন লক্ষ্য, ব্রাত্য বসু

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ার কয়েক মাস আগে রাজ্য সরকারের গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে এসএসসি (SSC)-এর প্রায় ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। আদালতের রায়ে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও, ভোটে যাওয়ার আগে এই ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেওয়াই এখন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রধান লক্ষ্য।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এদিন আদালত এবং বিরোধী দলগুলিকে একযোগে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “বিগত পাঁচ মাস ধরে আমাদের দফতর আদালত ও বিরোধী দলগুলির আক্রমণ ঘাড়ের উপর নিয়ে কাজ করেছে। এখন এসএসসি-র ‘যোগ্য’দের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলে, একটা বৃত্ত সম্পন্ন হবে। তাহলেই আমাদের রাজনৈতিক দল সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।”
৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল, স্বস্তিতে সরকার
এদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করায় প্রাথমিক স্কুলের প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রইল। স্বভাবতই এই রায়ে রাজ্য সরকার এবং শাসকদল ভীষণ খুশি।
এই রায়ের পরই বিকাশ ভবনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালকে পাশে নিয়ে ব্রাত্য বসু বলেন, “আদালতকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাব মুখ্যমন্ত্রীকে। পাঁচ মাস ধরে এই কেসের পিছনে মগজমারি করে গিয়েছি। তার ফলাফল আজ এসেছে। এই জয় প্রমাণ করে দিল, সরকার সবসময় শিক্ষকদের পাশে আছে। সত্যের জয় হল।” তিনি এই জয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে উৎসর্গ করেন।
তবে, এই রায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সেই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার সবার আছে। যাদের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি, তাঁরাও কিন্তু আমাদের রাজ্যেরই ছেলেমেয়ে। তাঁদের সঙ্গে এই সংকীর্ণ রাজনীতি করা উচিত নয়। ৩২ হাজার ছেলেমেয়ে যাঁরা চিন্তার মধ্যে ছিলেন, তাঁরা আবারও মাথা উঁচু করে স্কুলে যেতে পারবেন।”
‘টেট নিয়ে কোনো কেস হয়নি’
শিক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে দাবি করেন। তিনি বলেন, “২০২২-এ টেট নিয়ে ছিলাম। ১০ হাজার নিয়োগও করেছি। কোনো কেস হয়নি। তার থেকেই বোঝা যাচ্ছে, কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে। পুরোটা ভিডিয়ো করা আছে। অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটা একদমই ভুল। সেটা আদালতেও আমরা পেশ করেছিলাম।”