কর্ণাটক কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব চরমে! ‘দ্বিতীয় প্রাতরাশ’-এর পরই কি ক্ষমতা হস্তান্তর? জল্পনায় সিদ্দা-ডিকে শিবির!

কর্নাটক কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে চলতে থাকা দ্বন্দ্ব এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ ফের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের আহ্বানে ‘দ্বিতীয় প্রাতরাশ’ বৈঠকে বসছেন দুই শীর্ষ নেতা। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা— এই বৈঠকের পরই কি ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে কোনও বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে চলেছে?

খাড়গের প্রতিশ্রুতি ও হাইকমান্ডের চাপ

সূত্র অনুযায়ী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে গান্ধী পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি দক্ষিণী রাজ্যের এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করবেন। খাড়গের যুক্তি ছিল, ‘আমার উপস্থিতিতে আড়াই বছরের ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষা করা জরুরি। অন্যথায়, আমার নিজের রাজ্যে আমার বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না।’

এরপরই সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীকে খাড়গে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি এই সমস্যাটি মিটিয়ে দেবেন। হাইকমান্ডের কাছ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়— মুখ্যমন্ত্রী বদল হবে, তবে তা ‘কখন’ হবে, ‘হবে কি না’ সেই প্রশ্ন আর নেই। এর ভিত্তিতেই দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য খাড়গে প্রদেশ কংগ্রেসকে চাপ দিয়েছেন।

দ্বিতীয় প্রাতরাশ: ডিকে শিবকুমারের বার্তা

প্রথম প্রাতরাশ বৈঠকের পর সিদ্দারামাইয়া সবকিছু ঠিক আছে বলে দাবি করলেও, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সূত্রে খবর, ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে স্পষ্ট ঐক্যমত হয়নি। সিদ্দারামাইয়া দাবি করেছিলেন, সরকার গঠনের সময় ক্ষমতা ভাগাভাগির কোনো ‘রফা’র কথা তাঁর মনে নেই।

এর জবাবে উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার মঙ্গলবার প্রাতরাশের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন: “আমি এবং মুখ্যমন্ত্রী একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করে চলেছি। কর্নাটকের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা এবং জোরদার করার জন্য আমি মঙ্গলবার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে প্রাতরাশের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”

অপেক্ষায় ডিকে, তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়

জানা গিয়েছে, হাইকমান্ডের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ডিকে শিবকুমারকে দিল্লিতে ডাকা হবে এবং তাঁকে ‘আশ্বাস’ দেওয়া হবে যে, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হবে। তবে, রাহুল গান্ধী সরকার পরিচালনার মাঝপথে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি বদলের পক্ষে নন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের এই দ্বন্দ্ব কয়েক বছর আগে রাজস্থানের অশোক গেহলট ও শচীন পাইলটের ক্ষমতার লড়াইয়ের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সিদ্দারামাইয়ার অবস্থান: তাঁর পক্ষে ১০০ জনেরও বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এবং তিনি প্রভাবশালী ‘অহিন্দা’ সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতা।

ডিকে শিবকুমারের দাবি: তাঁর দাবি মূলত ২০২৩ সালের জয়ের পর ক্ষমতা বদলের প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং প্রভাবশালী ‘ভোক্কালিগা’ জাতের সমর্থনের উপর ভিত্তি করে।

শিবকুমারের শিবির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর আশা করছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর শিবির এই সময়সীমা নিয়ে খুশি নয় এবং ২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য ডিকেএসকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে সমর্থন করার একটি আপস প্রস্তাব দিয়েছে। শিবকুমার আপাতত বিদ্রোহের পথে হাঁটতে নারাজ, কিন্তু তিনি অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করবেন না।