এসএসসি-র অভিজ্ঞতা নম্বরে হাইকোর্টের তীব্র প্রশ্ন! “নবম-দশম ক্লাসের শিক্ষক একাদশ-দ্বাদশে নম্বর পাবেন কেন?” বিচারপতি সিনহার মন্তব্যে তোলপাড়!

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) শিক্ষক নিয়োগের নতুন প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রশ্ন তুলেছেন, অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত এবং তা কোন যুক্তিতে দেওয়া হচ্ছে?
আদালতের প্রশ্ন:
নতুন নিয়োগের পরীক্ষায় নতুন প্রার্থীদের পাশাপাশি যেসব শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরাও অংশ নিয়েছিলেন। সেই পরীক্ষায় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি ১০ নম্বর দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি সিনহা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন:
১. শ্রেণিগত পার্থক্য: যারা নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষকতা করেছেন, তাঁদের একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতার নম্বর দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? ২. স্তরগত পার্থক্য: যারা প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষকতা করেছেন, তাঁদের নবম-দশম বা একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নম্বর দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত?
নতুন নিয়োগ ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে যারা স্বাস্থ্য দফতরে কর্মরত ছিলেন, তাঁদেরও পূর্ব অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়েছে, যা গোটা প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
দাগি শিক্ষকদের আরও বড় তালিকা প্রকাশের নির্দেশ
এদিকে, সোমবার ফের একবার দাগি শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা। এই প্রথম নয়, অতীতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্ট একাধিকবার এসএসসি-কে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে বলেছিল।
গত ২৭ নভেম্বর এসএসসি ১ হাজার ৮০৬ জন দাগি নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষকের তথ্য প্রকাশ করেছিল। এবার আদালত এসএসসিকে আউট অফ প্যানেল, র্যাঙ্ক জাম্প এবং OMR মিস ম্যাচ হওয়া মোট ৭২৯৩ জন প্রার্থীর বিস্তারিত তথ্য সমেত তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত এসএসসিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছে। এমনকি, প্যানেল প্রকাশের পর যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, সেই শিক্ষকদের তালিকাও আগামী শুনানিতে আদালতে জমা দিতে হবে।