“টিকিটের দাম পপকর্নের চেয়েও বাড়ান!” অ্যাকাডেমিতে ছবি দেখতে গিয়ে দর্শকদের ‘পারফরম্যান্স’ দেখে ক্ষুব্ধ শিলাজিৎ মজুমদার

গায়ক ও অভিনেতা শিলাজিৎ মজুমদার তার রসিকতা এবং স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি শহরের এক নামকরা প্রেক্ষাগৃহে—’অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ একটি আলোচিত বাংলা ছবি দেখতে গিয়ে দর্শকদের আচরণে তিনি এতটাই বিরক্ত হয়েছেন যে, এক দীর্ঘ পোস্টে সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সেদিন সিনেমা নয়, বরং দর্শকের ‘পারফরম্যান্স’-ই ছিল দেখার মতো।

সাড়ে চারশো টাকার টিকিট ও হতাশ দর্শক রবিবার সন্ধ্যায় শিলাজিৎ মোটা দামের টিকিট কেটে (ট্যাক্স-ফ্যাক্স ধরে প্রায় সাড়ে চারশো টাকা) ছবিটি দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এত আলোচিত একটি ছবির শো জমজমাট হবে। কিন্তু হল ছিল অর্ধেক খালি। আর যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা যেন ছবি দেখতে নয়, বরং তামাশা করতে এসেছিলেন।

দর্শকদের হাসি ও অস্বস্তি শিলাজিৎ-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ছবি শুরু হতেই প্রেক্ষাগৃহে হুড়োহুড়ি হাসির ঢেউ ওঠে:

গালাগাল: চরিত্র গালাগাল করলেই দর্শকের চরম উচ্ছ্বাস ও হাসি।

হিংসাত্মক দৃশ্য: “বেড়াল মারা—হাসি, পাগলকে লাথি মারা—হাসি।”

পশুর মৃত্যু: সুদীপের প্রিয় কচ্ছপ এবং অনুরূপার পোষা কৃষ্ণেন্দু নামের কুকুরকে ‘রান্না’ করার দৃশ্যে হল ভরে যায় মেয়েলি হাসিতে। শিলাজিৎ-এর প্রশ্ন, “গালাগাল শুনে মেয়েরা এত আনন্দ পান কেন?”

অন্যদিকে, তাঁর মন পড়েছিল হলের পরিবেশের দিকে। তিনি লেখেন, এসি কাজ করছে কিনা সন্দেহ হচ্ছিল, তার উপর কারও নিরামিষ খাবারের গন্ধে তাঁর গা ঘিনঘিন করছিল।

পপকর্ন ও দাম বাড়ানোর পরামর্শ এরপর আসে উচ্চমূল্যের পপকর্নের প্রসঙ্গ। শিলাজিৎ ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন, কীভাবে দর্শকরা তিনশো পঞ্চান্ন টাকার সল্টেড পপকর্ন ‘কচমচ’ শব্দে খাচ্ছেন, দামী কোলা খেয়ে জোরে ‘ঘড়ক’ ঢেকুর তুলছেন এবং ফোন ধরে চাবির অবস্থান জানাতে ব্যস্ত থাকছেন—পাশের লোকের বিরক্তি তাতে কিছু যায় আসে না।

এইসব দেখে শিলাজিৎ-এর তীক্ষ্ণ মন্তব্য: “আজ সিনেমা নয়, দর্শকের সমালোচনা করা জরুরি।”

বাংলা সিনেমার পরিচালক-প্রযোজকদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট পরামর্শ:

“বাংলার পরিচালক-প্রযোজকদের বলছি—টিকিটের দাম অন্তত পপকর্নের চেয়ে বাড়ান! আমরা কনসার্টে দু-হাজার টাকার টিকিট দিতে পারি। সিনেমা তো গান থেকেও বড় শিল্প—তার দাম এত কম কেন? দর বাড়ান। যারা গালাগাল শুনে হাসতে আসেন, তাঁদের টিকিট পপকর্নের থেকেও দামী করুন!”

তাঁর দাবি, যেখানে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কোনওরকমে পেট ভরে ঘুমোবেন, সেখানে সিনেমা নামক বিলাসে সামান্য বাড়তি দাম দিতে দোষ কী? বাংলা সিনেমার শিল্পের মূল্য থাকা উচিত—এই প্রশ্ন রেখেই তিনি তাঁর হতাশা শেষ করেছেন।