ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথম সফর! কেন বাড়তি দুটি S-400 রেজিমেন্ট দিতে পারে রাশিয়া? প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় গতি ফেরার ইঙ্গিত!

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ৪ ডিসেম্বর দুদিনের জন্য ভারত সফরে আসতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, এই সফরের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে বড়মাপের প্রতিরক্ষা চুক্তি। দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে ভারতের জন্য নতুন করে S-400 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাবও আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে।

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর প্রথম ভারত সফর:

পুতিন আগামী ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভারতে আসছেন ২৩তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর।

আলোচনার মূল বিষয়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত S-400 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তি।

কৌশলগত অংশীদারিত্ব: ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই চুক্তি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ভারতের সঙ্গে নতুন S-400 চুক্তি নিয়ে আলোচনা:

ভারত–রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে নতুন করে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রস্তাব: বৈঠকে মস্কোর পক্ষ থেকে ভারতীয় বায়ুসেনাকে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনটি S-400 রেজিমেন্ট সরবরাহের প্রস্তাবও সামনে আসতে পারে।

নির্ভরশীলতা: রাশিয়ার এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে যখন ভারত এখনো বড় অংশে রাশিয়ান সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল—দেশের মোট অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই রাশিয়া-উৎপন্ন। যদিও গত এক দশকে রাশিয়া থেকে অস্ত্র আমদানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, তবুও এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আবারও গতি পেতে পারে।

শীর্ষ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সময়মতো সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হবে। এখন দেখার, পুতিনের এই ভারত সফর ভারত-রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়।