২০২৬ সাল হতে চলেছে ১৩ মাসের বছর! আসছে ‘অধিক মাস’ বা ‘পুরুষোত্তম মাস’, জানুন জ্যোতিষশাস্ত্রের বিরল তাৎপর্য

২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের আগমন হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জ্যোতিষবিদদের কাছে অত্যন্ত বিরল এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সাল নাকি ১৩ মাসের বছর হবে! এই বছরে একটি চন্দ্র মাস ৩০ দিনের বদলে প্রায় ৫৮ থেকে ৫৯ দিনের হবে।
দুটি জ্যৈষ্ঠ মাস ও অধিক মাস (Adhik Maas 2026):
জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালে একটি নয়, বরং দুটি জৈষ্ঠ মাস আসবে। এই অতিরিক্ত মাসটিকে অধিক মাস, মলমাস, বা পুরুষোত্তম মাস বলা হচ্ছে।
কারণ: হিন্দু ক্যালেন্ডার চান্দ্র (Lunar) মাসের উপর ভিত্তি করে চলে, যেখানে চান্দ্রবছর হয় প্রায় ৩৫৪ দিনের। অন্যদিকে সৌরবছর (Solar) হয় ৩৬৫ দিনের। এই চান্দ্র এবং সৌর বছরের মধ্যে থাকা প্রায় ১১ দিনের পার্থক্যকে ভারসাম্য রাখতে প্রতি ৩২ মাস, ১৬ দিন এবং ৮ ঘণ্টা অন্তর একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত করা হয়, যাকে অধিক মাস বলা হয়। এই অতিরিক্ত মাসটির সময়কাল মোটামুটি ৫৮ থেকে ৫৯ দিনের হয়।
সময়কাল: ২০২৬ সালের এই অতিরিক্ত জ্যৈষ্ঠ মাসটি ১৭ মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত শেষ হবে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের গুরুত্ব ও করণীয়:
জ্যোতিষশাস্ত্রে এই অধিক মাসকে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুরুষোত্তম মাস বা ‘সবথেকে পবিত্র মাস’ হিসেবে পরিচিত এই মাসটি মূলত ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যেই উৎসর্গ করা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, এই মাসে:
পূজা ও উপাসনা: ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা করলে সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
পুণ্য লাভ: প্রার্থনা, দান, ধ্যান, তপস্যা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করলে বিপুল পুণ্য লাভ হয়।
বর্জনীয় কাজ:
যদিও আধ্যাত্মিকভাবে এই মাসটিকে পালন করলে কৃপা বর্ষিত হয়, তবে কিছু শুভ অনুষ্ঠান এই মাসে করা যায় না। যেমন:
বিবাহ
নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (ভূমি পূজা)
নতুন ব্যবসা শুরু করা
সবমিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিক্রম সংবত শুরু হচ্ছে দুটি জ্যৈষ্ঠ মাসের এক বিরল সংমিশ্রণ নিয়ে, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য এক বিশেষ সুযোগ এনে দিচ্ছে।