‘৪২ জনের মৃত্যুকে ড্রামা বললেন প্রধানমন্ত্রী?’ SIR ও বকেয়া ইস্যুতে কেন্দ্রকে একযোগে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের!

পশ্চিমবঙ্গে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া এবং সংসদে বিরোধীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ‘ড্রামা’ মন্তব্য— এই দুই ইস্যুতে এবার কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার নিজের সংসদীয় কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারে ‘সেবাশ্রয় ২’ কর্মসূচির উদ্বোধনে গিয়ে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ দুটি মৌলিক প্রশ্ন তোলেন:

১. যদি অনুপ্রবেশ ঠেকানোই কেন্দ্রের উদ্দেশ্য হয়, তবে কেন বেছে বেছে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই এসআইআর করা হচ্ছে? ২. এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে রাজ্যে ৪০ জনের মৃত্যুকে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ‘ড্রামা’ বলতে পারেন?

মোদী-শাহের ভূগোল জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন:

বিজেপি নেতাদের দাবি, রাজ্যে এক কোটি রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এই অভিযোগের পাল্টা যুক্তি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন:

“রোহিঙ্গা যদি বাংলায় আসে, তাহলে হয় অরুণাচলে আসতে হবে। মায়ানমারের সঙ্গে তো বেঙ্গল বর্ডার শেয়ার করে না। মায়ানমারের সঙ্গে বর্ডার শেয়ার করে অরুণাচলপ্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর। এই চারটে রাজ্যের মধ্যে একটা রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে না বলে বাংলায় হচ্ছে কেন?”

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া অন্যান্য রাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আপনি বলছেন বাংলাদেশ থেকে লোক এসেছে, তাই বাংলায় এসআইআর হচ্ছে। তাহলে ত্রিপুরায়, মেঘালয়, মিজোরামে এসআইআর হবে না কেন?”

অভিষেকের অভিযোগ, অনুপ্রবেশ আটকানো বিজেপির আসল উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিক স্বার্থে বেছে বেছে ‘বাঙালিদের টার্গেট’ করা এবং বাংলাজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা।

‘মানুষের মৃত্যুকে ড্রামা বলছে’:

সংসদে বিরোধীদের হইহট্টগোল ও দাবিদাওয়াকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ড্রামা’ বা নাটক বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এদিন সেই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক।

তৃণমূল সাংসদ ক্ষোভের সুরে বলেন:

“আজকে এই যে ৪০ জন মারা গিয়েছে, যাঁরা তাঁদের মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদেরকে বলছেন ড্রামা। মানুষের মৃত্যুকে তো ড্রামা বলছে বেসিক্যালি। ৪০ জন মানুষ মারা গেল অপরিকল্পিত এসআইআর-এর কারণে, তার দায়বদ্ধতা কোথায়?”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা বা দিল্লির বিস্ফোরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি নাটক? রাজ্যের বকেয়া টাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি নাটক?”

অভিষেকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখন আর নিরপেক্ষ নেই, তারা বিজেপি সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। নিজেরা ব্যর্থতা ঢাকতে বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এখন সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করছে।