কাজ করা হয়ে যাবে ‘শখের বিষয়’! আগামী ২০ বছরে AI-এর ধাক্কায় বিরাট পরিবর্তন, নিখিল কামাথের পডকাস্টে ইলন মাস্কের ভবিষ্যদ্বাণী!

টেসলা (Tesla) ও স্পেসএক্স (SpaceX)-এর সিইও ইলন মাস্ক (Elon Musk) সম্প্রতি জিরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথের সঙ্গে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) নিয়ে এক যুগান্তকারী ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর কথায়, এআই এবং রোবোটিক্স যে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তাতে আগামী ২০ বছরের মধ্যে মানুষের জন্য কাজ করাটা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না, বরং তা অনেকটা ‘শখের’ (Hobby) মতো ঐচ্ছিক হয়ে যাবে।
কাজ না করেও জীবনযাপন: ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম
মাস্কের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এমন এক সময় আসবে যখন কারও কাজ করতে ইচ্ছা না করলে, তাকে কাজ করতে হবে না। কারণ, কাজ না করেও সঠিকভাবে জীবন কাটাতে তাঁর কোনো সমস্যা হবে না। এর প্রধান কারণ হবে ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম (UBI)। এর আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানী রোমান ইয়াম্পোলস্কিও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
কেন এমন দাবি করছেন মাস্ক?
টেক-গুরু ইলন মাস্কের মতে, যে গতিতে এআই এগোচ্ছে, তাতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সব ধরনের শ্রমের কাজ সে একাই সামলে নিতে পারবে।
“সহজ কথায় আপনি যা ভাবতে পারেন, সেই ধরনের পণ্য বা পরিষেবা আপনার সামনে এসে হাজির করবে। If you can think of it, you can have it।” — ইলন মাস্ক।
মাস্কের থিয়োরি অনুযায়ী, তখন যাঁরা কাজ করবেন, তাঁরা অনেকটা শখ পূরণ করার জন্য বাগানে সবজি ফলানোর মতো করে কাজ করবেন—টাকা উপার্জনের জন্য নয়, শুধু ভালোলাগা থেকেই।
ভারতীয় সিইওদের থিয়োরির সঙ্গে বিরোধ
ইলন মাস্কের এই মন্তব্য ভারতের বর্তমান কর্ম সংস্কৃতির ঠিক উল্টো মেরুতে অবস্থান করছে। যেখানে কিছুদিন আগে ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তি তরুণদের সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা কাজের কথা বলেছিলেন, সেখানে লাসরন অ্যান্ড টুর্বোর এসএন সুব্রহ্মণ্যম তো আরও এক ধাপ এগিয়ে ৯০ ঘণ্টা কাজ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
মাস্ক বলছেন, পাশ্চাত্যের দেশগুলো যখন সপ্তাহে ৪ দিন বা ৩ দিন কাজ করার দিকে ঝুঁকছে, তখন চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে কাজ করাটা আর বাধ্যতামূলক থাকবে না।
‘টেকনিক্যাল সিঙ্গুলারিটি’: ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
তবে ইলন মাস্ক এটাও স্বীকার করেছেন যে এই ভবিষ্যত আসলে অনিশ্চিত। তাঁর মতে, গোটা মানবজাতি এক টেকনিক্যাল সিঙ্গুলারিটি-র দিকে এগিয়ে চলেছে—এমন এক পরিস্থিতি যার পর কী হবে, কেউ আন্দাজ করতে পারে না। মানুষের চাহিদা পূরণ করার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো তখন নিজের উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করবে।
মাস্কের এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হলে, প্রযুক্তির সুবিধা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। তা না হলে এই ‘ইচ্ছা হলে কাজ করব’ ব্যাপারটা কেবল সমাজের একটি বিশেষ অংশের মানুষের কাছেই বাস্তব রূপ নেবে। আর সেই কারণেই আগামী এক দশক গোটা বিশ্বের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার সময় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।