SIR আতঙ্কের ছায়া, ভাতারে ফর্ম জমা দিয়েই গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন বৃদ্ধা

পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার ভুমশোর গ্রামে ফের এসআইআর (SIR) বা স্টেট ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টের আতঙ্কে চাঞ্চল্য ছড়াল। এসআইআর সংক্রান্ত মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে এক বৃদ্ধা গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃতের নাম মুস্তরা খাতুন কাজি (বয়স ৭০ বছর)। শুক্রবার তিনি এসআইআর ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। এরপর শনিবার সকালে তিনি আত্মঘাতী হন। এদিনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এসআইআর সংক্রান্ত চাপ ও মানসিক অশান্তির জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

SIR-এর আতঙ্কে জনশূন্য গোটা গ্রাম, রাতারাতি উধাও ১০০-র বেশি পরিবার
অন্যদিকে, এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া এলাকার একটি বস্তি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এই গ্রামে একশোরও বেশি পরিবার বসবাস করত, যাদের বেশিরভাগই ভাঙারির কাজ করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পরিবারগুলি মূলত বাংলাদেশ থেকে এসেছিল।

এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই তাদের গতিবিধিতে পরিবর্তন আসে। গত দু’বছরের বেশি সময় ধরে বসবাসকারী এই পরিবারগুলো একে একে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে। রাতারাতি গোটা গ্রাম এখন জনমানবহীন। তবে এই পরিবারগুলি ঠিক কোথায় গেছে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে কোনো সঠিক তথ্য নেই। এলাকার মানুষজন এলাকা ফাঁকা হওয়ার খবর প্রশাসনকে জানালে, প্রশাসনের তরফ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়।

নদীয়ায় এসআইআর ফর্মে ভুল, অচেনা ব্যক্তির নাম! কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার
এদিকে, নদীয়া জেলার শান্তিপুর ব্লকের নবলা পঞ্চায়েতের প্রমোদপল্লি এলাকায় এসআইআর ফর্ম বিতরণকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় টোটো চালক গোবিন্দ রায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যের জন্য ছয়টি এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ফর্মটিতে শান্তনু রায় নামে এমন এক ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাকে গোবিন্দ রায় বা তাঁর পরিবারের কেউই চেনেন না।

গোবিন্দ রায়ের বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা সুভাষচন্দ্র রায়, স্ত্রী ও ১১ বছরের কন্যা রয়েছেন। তাঁর মা অনেক বছর আগেই প্রয়াত হয়েছেন। পরিবারে দুই ভাইয়ের পরিবারসহ মোট পাঁচটি ফর্ম পাওয়ার কথা থাকলেও, বুথ লেভেল অফিসার (BLO) আশা মণ্ডল জোর করে তাঁকে অতিরিক্ত ফর্মটি দেন বলে অভিযোগ। বিএলও জানান— শান্তনুর বাবার নামও ‘সুভাষচন্দ্র রায়’, তাই ফর্মটি এই বাড়িতেই দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের ভুলে ভরা এনুমারেশন ফর্ম বিতরণের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।