‘আমাকে মারধর করেছে, পেটাব বলেও হুমকি দিয়েছে!’ কুকুরদের খাবার দিতে গিয়ে মাঝরাতে হেনস্থার শিকার সায়ন্তনী

পথকুকুরদের খাওয়ানোর ‘অপরাধে’ শীতের রাতে কিছু অপরিচিত ব্যক্তির কাছে হেনস্থার শিকার হলেন অভিনেত্রী সায়ন্তনী সেনগুপ্ত মল্লিক (Sayantani Mullick) এবং তাঁর অভিনেতা স্বামী ইন্দ্রনীল মল্লিক (Indranil Mullick)। গতকাল গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কসবা থানা এলাকার রাজডাঙায়। রাতেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে এলাকার মানুষদের সঙ্গে বচসা চলাকালীন অভিনেত্রী ফেসবুকে লাইভ করেন।

লাইভে পুলিশকে ট্যাগ করে অভিযোগ:

সায়ন্তনী জানান, রাজডাঙায় পথকুকুরদের খেতে দিতে গিয়েই স্থানীয় কিছু বয়স্ক মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। রাস্তায় কেন কুকুরদের খেতে দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন। এই নিয়ে শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, একসময় স্থানীয়রা চড়াও হন ইন্দ্রনীলের ওপর।

ভিডিওতে অভিনেত্রী কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে বলেন:

“দয়া করে আপনারা এটা দেখুন। এখানকার এই বয়স্ক মানুষরা আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। এখানে রাস্তায় খেতে দেওয়া যাবে না বলে আমাদের অকথ্য ভাষায় কথা বলছেন। আমরা এই নিয়ে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করব।”

লাইভ চলাকালীনই দেখা যায়, এলাকার বর্ষীয়ানেরা তেড়ে আসছেন ইন্দ্রনীলের দিকে। ইন্দ্রনীল ও সায়ন্তনীর সঙ্গে থাকা আরও একজনও এই গোলযোগের মধ্যে পড়েন। ঘটনার পর কমেন্ট বক্সে সকলেই অভিনেত্রীকে সমর্থন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার অনুরোধ জানান।

শারীরিক আঘাত ও এফআইআর:

ইটিভি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সায়ন্তনী জানান, তাঁরা কসবা থানায় এফআইআর (FIR) করেছেন, তবে এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। নিজের শারীরিক আঘাতের কথা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন:

“যে দিকটা হার্ট অ্যাটাকের পর জখম সেদিকেই আমাকে মেরেছে। ইন্দ্রনীলকেও মেরেছে। ওকেও ডাক্তার দেখাতে হবে এবার। আমি একজন মহিলা, আমাকেও বলেন পেটাবেন। আর সেটা করলেনও।”

অভিনেত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সেলেবদের সঙ্গেই যদি এমন হয় তা হলে তো সাধারণ মানুষের সঙ্গে এরকম যখন তখন হবে। ভয় পাচ্ছি আমার আরেকটা না হার্ট অ্যাটাক না হয়।”

ফের বিতর্কের কেন্দ্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ:

সায়ন্তনীর সঙ্গে ঘটা এই ঘটনাটি আরও একবার সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশকে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে রাস্তা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় প্রশ্ন তুলেছেন, যে রাস্তাতেই প্রকাশ্য দিবালোকে অপরাধীর দল ঘুরে বেড়ায়, সেখানে নিরীহ প্রাণীদের কোনও জায়গা নেই কেন? পথকুকুরদের তুলে নিয়ে গিয়ে কোথায় রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।