‘ভুয়ো জন্মসনদ তৈরি হচ্ছে’! KMC-র শিবিরকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

কলকাতা পুরসভার (KMC) বিশেষ জন্মসনদ সংশোধন শিবির চালু করা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বেড়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য পুরসভার এই পদক্ষেপকে “চূড়ান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

দিলীপ ঘোষের গুরুতর অভিযোগ:

শুক্রবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, তৃণমূল সরকার এবং তাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন পুরসভা ও পৌরসভায় হাজার হাজার ভুয়ো ও ব্যাকডেটেড (Backdated) জন্মসনদ তৈরি করা হচ্ছে।

  • টার্গেট ২০০২ সাল: দিলীপ ঘোষের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০০২ সালের আগের তারিখ দেখিয়ে সনদ তৈরি করা।
  • ভোটার তালিকায় প্রভাব: তিনি বলেন, “কেউ যদি আগে জন্মেছে বলে সনদ দেখিয়ে ভোটার হতে চায়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের পারিবারিক নথিপত্রও পরীক্ষা করা উচিত। নয়তো হাজার হাজার মানুষ ব্যাকডেটেড সার্টিফিকেট দেখিয়ে এখানে ভোটার হয়ে যাবে। তৃণমূল একটি সুপরিকল্পিত উপায়ে এই কাজ করছে।”

বিজেপির এই অভিযোগের মূল লক্ষ্য ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। দিলীপ ঘোষের কথায়, “জন্মসনদ শিবির বলছে, সহজ পরিষেবা দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কার স্বার্থে এই পরিষেবা? নির্বাচন আসছে, আর ঠিক সেই সময়েই হাজার হাজার ব্যাকডেটেড সনদ তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমে অযোগ্য অনেককে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

মুর্শিদাবাদ সফর ও মসজিদ বিতর্ক:

জন্মসনদ বিতর্কের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্শিদাবাদ সফর নিয়েও তৃণমূলকে নিশানা করেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি তৃণমূলের বিধায়ক হুমায়ুন কবির ‘বাবরি মসজিদের ভিত্তি স্থাপনের’ দাবি তোলার পরই এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে ওঠে।

  • দিলীপ ঘোষের মন্তব্য: তিনি বলেন, “নিজের জায়গায় যে কেউ মসজিদ বানাতে পারেন, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু ভারতের মাটিতে বাবরের নামে কোনও মসজিদ হবে না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে ওরা যাচ্ছিল দেখতে যে ঠিকমতো হচ্ছে কিনা।”
  • তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার ধর্মীয় রাজনীতি করে সংখ্যালঘু তোষণের পথে হাঁটছে এবং তারই ফল হলো এমন বিতর্কিত প্রস্তাবের জন্ম।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব:

বিজেপির অভিযোগকে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন চাপানউতোর সৃষ্টি করলেও তৃণমূল শিবির তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের পাল্টা বক্তব্য—এটি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিজেপি শুধু বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। তৃণমূল নেতারা বলেছেন, “যখনই মানুষের নতুন কোনও পরিষেবা শুরু হয়, তখনই বিজেপি সেটিকে অন্য পথে ঘোরাতে চায়। সাধারণ মানুষ জানে, কারা তাঁদের কাজ করছে আর কারা শুধু মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জন্মসনদ ইস্যুটি আগামী দিনে ভোট রাজনীতিতে বড় বিতর্ক হয়ে উঠতে পারে, কারণ পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নগুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল।