SIR-ভিড় সামলাতে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট পরিষেবার সময় বাড়াচ্ছে কলকাতা পুরসভা

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) শুনানির আগে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের নথির চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে আবেদন জমা দেওয়ার সময় ও দৈনিক স্লটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেন, প্রতিদিনের জন্য বরাদ্দ বর্তমান ১৫০টি স্লট বাড়িয়ে ৫০০ থেকে ১,০০০ পর্যন্ত করা হবে। সাধারণ মানুষের ভিড় সামাল দিতে দ্রুত এই পদক্ষেপ কার্যকর করার নির্দেশ দেন তিনি।

কেন বাড়ছে আবেদন? SIR-এর সঙ্গে কী সম্পর্ক?

আসলে, আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে SIR শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই শুনানিতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা যে সমস্ত ব্যক্তির নাম কোনও আত্মীয়ের সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, তাদের যাচাইকরণের জন্য ডাকা হতে পারে। এই যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্ম শংসাপত্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচিত। সে কারণেই বহু নাগরিক নতুন করে সার্টিফিকেট বা পুরনো নথির কপি পেতে কলকাতা পুরসভার দিকে ছুটছেন।

কীভাবে আবেদন করবেন ও সার্টিফিকেট পাবেন?

স্লট বুকিং: আবেদন করার জন্য KMC-এর চ্যাটবট 8335999111-এর মাধ্যমে স্লট বুক করতে হবে।

সময়সীমা: চ্যাটবট সিস্টেমে সাত দিন আগে পর্যন্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, স্লট বাড়লেও আবেদনকারীরা এক সপ্তাহ পরে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

নবজাতক/সাম্প্রতিক মৃত্যু: নবজাতক বা সম্প্রতি মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরিবার ‘জন্ম-মৃত্যু তথ্য পোর্টাল’ থেকে সরাসরি সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারে।

পুরনো নথি/সংশোধন: পুরনো সার্টিফিকেট বা নথির সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা KMC-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

কত দিনে মিলবে সার্টিফিকেট? দেরি কোথায় হতে পারে?

যদি সমস্ত রেকর্ড সঠিকভাবে মেলে, তবে মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই সার্টিফিকেট জারি করে তা পোর্টালে আপলোড করা হয় এবং আবেদনকারীকে SMS-এর মাধ্যমে ডাউনলোড লিঙ্ক পাঠানো হয়।

তবে, নামের বানান ভুল, রেকর্ডের সঙ্গে তথ্যের অমিল বা বিভিন্ন ঠিকানার মতো সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে। পুরসভা অফিসারদের মতে, বহু পুরনো রেকর্ড এখনও ডিজিটাইজ না হওয়ায় কর্মীদের হাতে খুঁজে বের করতে সমস্যা হচ্ছে, যার ফলেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে বাড়তি চাহিদা মেটাতে অন্য বিভাগ থেকে কর্মী এনে নতুন কাউন্টার খোলার নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।