‘সুদর্শন চক্র শত্রুকে ধ্বংস করেছে’! উদুপি থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও নয়া ভারতের সংকল্প তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ কর্নাটকের উদুপির শ্রীকৃষ্ণ মঠে অনুষ্ঠিত ‘লক্ষ-কণ্ঠ গীতা পাঠ’ (Laksha Kantha Gita Parayana) অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে “নয়া ভারত”-এর শক্তি ও সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সুদর্শন চক্র যে শত্রুকে ধ্বংস করে দিতে পারে, অপারেশন সিঁদুরে আমরা তা দেখেছি।”
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, “আগে এমন সন্ত্রাস হানার পরে সরকার প্রায় কিছুই করত না। কিন্তু এ হল নতুন ভারত। যে ভারত কখনও মাথা নত করেনি, নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক পা পিছিয়েও যায় না।”
উদুপিতে রোড শো সেরে মোদী শ্রীকৃষ্ণ মঠে পৌঁছন। সেখানে তিনি এক লক্ষেরও বেশি মানুষ, যার মধ্যে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, সন্ন্যাসী ও সাধারণ মানুষ ছিলেন, তাঁদের সম্মিলিত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শ্লোক পাঠে অংশ নেন। এক লক্ষ মানুষের গীতাপাঠের সেই দৃশ্য দেখে প্রধানমন্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং এটিকে “ভারতের হাজার বছরের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের দেবদ্যুতি” বলে বর্ণনা করেন। তিনি শিশুদের আঁকা তাঁর প্রতিকৃতি সংগ্রহ করতে নিরাপত্তাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশও দেন।
মঠে তিনি সোনালি ছাউনি দেওয়া ‘কণক কাবচ’ এবং ‘সুবর্ণ তীর্থ মণ্ডপ’-এর উদ্বোধন করেন, যা ভক্ত সন্ত কনকদাসের কাছে প্রতীকীভাবে অত্যন্ত পবিত্র।
অযোধ্যা প্রসঙ্গে মোদী স্মরণ করিয়ে দেন, “ওখানে ধর্মধ্বজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রামমন্দির আন্দোলনে উদুপির ভূমিকা গোটা দেশ জানে।” একই সঙ্গে তিনি উদুপিকে জনসঙ্ঘ ও বিজেপির ‘গুড গভর্ন্যান্স মডেল’-এর ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ডাক দেন। সবশেষে মোদী মন্তব্য করেন, “গীতার বাণী শুধু ব্যক্তিকে পথ দেখায় না, দেশের নীতিনির্ধারণেও আলোকস্তম্ভের কাজ করে।”
অন্যদিকে, ডিসেম্বরের ৪ ও ৫ তারিখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরে আসছেন। এই খবরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক শিলমোহর দিয়েছে। পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও দেখা করবেন।