ফর্ম পূরণ থেকে ডিজিটাইজেশন! SIR-এর চাপে ব্রেনস্ট্রোকে BLO, SSKM-এ ভর্তি! কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া SIR (Special Investigation Report)-এর কারণে ফর্ম পূরণ, ডেডলাইনের দুশ্চিন্তা এবং ডিজিটাইজেশনের ঝক্কি সামলাতে গিয়ে রাজ্যের একাধিক জায়গায় BLO (Booth Level Officer)-দের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই ফের অসুস্থ হলেন আরও দুই BLO।

ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত BLO SSKM-এ ভর্তি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের ২৭৬ নম্বর বুথের BLO দেবাশিস দাস (মাতঙ্গিনী হাজরা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) অসুস্থ হয়ে SSKM মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (CCU) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, SIR-এর কাজের অতিরিক্ত চাপেই তাঁর ব্রেনস্ট্রোক হয়েছে। অসুস্থ BLO-র ছেলে সৌরভ দাস জানিয়েছেন, কাজের চাপের কারণেই তিনি BDO অফিস থেকে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।

তাঁর স্ত্রী রিনা দাস বলেন, “এ ক’দিন SIR-এর চাপটা খুব বেশি ছিল। উনি (পঞ্চায়েত কর্মী) বারবার করে ফোন করছেন, ‘আপনি পিছিয়ে আছেন, আপনি পিছিয়ে আছেন’—এটাই তো একটা বড় চাপ।”

কলকাতাতেও ডিজিটাইজেশনের চাপ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি কলকাতার যাদবপুরেও একই অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার, SIR-এর কাজ চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন রাসবিহারীর ২৫৬ নম্বর পার্টের BLO প্রদীপ সন্দীপ ভুক্তার। তাঁর অভিযোগ, ডিজিটাইজেশনের চাপেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পূর্বের কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র কাজের চাপেই এই অসুস্থতা বলে তিনি জানান।

দেশজুড়ে BLO-দের মৃত্যুমিছিল

SIR-এর কাজের চাপের কারণে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশজুড়ে BLO-দের অসুস্থতা এবং মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ দিনে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ২৫ জন BLO-র মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। সবচেয়ে বেশি BLO-র মৃত্যু হয়েছে মধ্যপ্রদেশে (৮ জন), এরপর গুজরাতে ৫ জন এবং উত্তরপ্রদেশে ৪ জন। এছাড়া রাজস্থান, কেরল এবং তামিলনাড়ুতেও BLO-দের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা (তৃণমূল) অভিযোগ করেছেন, “মোদি সরকার সংবিধানবিরোধী নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে, SIR-এর নাম করে যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে।” অন্যদিকে, বিজেপি নেতা কাশীনাথ জানা দাবি করেছেন, “SIR-এর কারণেই অসুস্থ হয়েছেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। দীর্ঘদিন সময় পাওয়া সত্ত্বেও ওই বুথটাতে কাজটা পিছিয়ে।”