ডায়মন্ড হারবার থেকে শুভেন্দুর জেলায়! পুলিশকর্তার বদলি ঘিরে নবান্নে জোর চর্চা, মিতুন দের কাঁধে কি পূর্ব মেদিনীপুর শাসনের গুরুভার?

সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের একাংশের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে একজন সাব ইন্সপেক্টর, ইন্সপেক্টর এবং এসইপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্তার বক্তৃতার ক্লিপিংস দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার ডাক দিচ্ছেন। এই মর্মে তিনি ৯১৫ জন পুলিশ কর্মীর (কলকাতা পুলিশের ৩২৪ জন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ৫৯১ জন) নাম উল্লেখ করে CEC জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও করেছেন।
বদলি ঘিরে গুঞ্জন: ডায়মন্ড হারবার টু পূর্ব মেদিনীপুর
পুলিশের এই নিরপেক্ষতা বিতর্কের মাঝেই এসপি র্্যাঙ্কে একাধিক রদবদল করল নবান্ন। যার মধ্যে WBPS মিতুন দে-কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বদলি করা নিয়ে পুলিশমহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়মন্ড হারবার থেকে শুভেন্দুর নিজের জেলায় এই বদলির পিছনে রয়েছে বিশেষ রাজনৈতিক অঙ্ক।
মিতুন দে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় কাজের সুবাদে শাসকের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পুলিশমহলে পরিচিত। তাঁর দাবাং ভাবমূর্তি এবং ২০১৬, ২০২১-এর বিধানসভা ভোট ও ২০২৪ লোকসভা ভোট দক্ষতার সঙ্গে সামলানোর রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ মহলের একাংশের ধারণা, নির্বাচনের ফলাফলেই লুকিয়ে আছে এই বদলির অনেক উত্তর। সেই কারণেই কি শুভেন্দুর জেলাকে শাসন করতে মিতুনকে বদলি করা হলো?
যদিও পুলিশের অন্য মহলের দাবি, মিতুনকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পদে বদলি করা হয়েছে, যা মূলত প্রশাসনিক কাজ সামলানোর জন্যই। তবে কার্যক্ষেত্রে মিতুন প্রশাসনিক কাজের বাইরে জেলা শাসন করতে কতটা মাথা ঘামান, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও একাধিক আইসি বদল করে নতুন আইসিদের নিয়ে আসা হয়েছে, যার পিছনেও বিশেষ অঙ্ক রয়েছে বলে দাবি পুলিশ মহলের।
SP-এর বিরুদ্ধে ‘আইপ্যাক যোগে’র বিস্ফোরক অভিযোগ
এদিকে, বৃহস্পতিবারই শুভেন্দু অধিকারী আরও একটি সাংবাদিক বৈঠক করে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে সোচ্চার হন। তিনি পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের (I-PAC) সঙ্গে ‘যোগসাজশ’ রেখে কাজ করার বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।
নন্দীগ্রামের হরিপুরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও গুরুতর অভিযোগ আনেন। শুভেন্দু দাবি করেন, নন্দীগ্রাম থেকে ন’জন সিভিক ভলান্টিয়রকে শুধুমাত্র ‘হিন্দু হওয়ার কারণে’ অন্যান্য থানায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগগুলি বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।