‘কিছু জয়চন্দ্রও থাকে’, সরিষায় বিক্ষোভের পর মুখ খুললেন সুকান্ত মজুমদার; অস্বস্তি বাড়াল ভাইরাল অডিও

বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে জড়ো হওয়া যুবকদের পরিচয় নিয়ে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। বিক্ষোভকারীরা নিজেদের বিজেপির কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করলেও, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তা মানতে নারাজ। এই বিক্ষোভের দায় তৃণমূলের দিকে ঠেলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। পাল্টা তৃণমূল শিবির এই ঘটনাকে নিছক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছবি বলেই দাবি করেছে।

সুকান্তর ‘জয়চন্দ্র’ তত্ত্ব
বিক্ষোভের মুখে সুকান্ত মজুমদার তাঁর নিজস্ব ‘তত্ত্ব’ খাড়া করেছেন। তিনি বলেন, “রাবন যখন সীতাকে হরণ করে গিয়েছিলেন তখন গেরুয়া পরেছিল। যা দেখে সীতাও ভুল করেছিলেন। তেমনই সবই গেরুয়া বিজেপি নয়। সব হিন্দু পৃথ্বীরাজ চৌহান হয় না। কিছু কিছু জয়চন্দ্রও হয়। তাঁদের থেকে বেঁচে থাকতে হবে।” সুকান্তর এই ‘জয়চন্দ্র’ তত্ত্বকে শুধু তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত হিসাবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, যখন এই বিক্ষোভের সঙ্গে বারংবার দিলীপ ঘোষ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অভিজিৎ দাসের (ববি) নাম জড়াচ্ছে, তখন এই মন্তব্যের একাধিক রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকতে পারে।

ভাইরাল অডিওতে নতুন বিতর্ক
এই বিক্ষোভের পর প্রকাশ্যে এসেছে একটি ভিডিয়ো, যা ঘিরে চর্চা অনেক। ভিডিয়োটিতে কাউকে দেখা না গেলেও দু’টি গলা শোনা যায়। একাংশের দাবি, একটি গলা সুকান্তর, যেখানে তিনি বলছেন, “এঁরা সব ববির লোক”। এই ‘ববি’ ওরফে অভিজিৎ দাস হলেন দিলীপ-ঘনিষ্ঠ। এই অডিও ফাঁস হওয়ার পর তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্বে আরও শান পড়েছে।

তৃণমূল মুখপাত্র তথা কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “ঘরের মধ্যেই অন্তর্কলহ। দিলীপ ঘোষকে জেতা সিট থেকে সরিয়ে হারা সিটে দেওয়া। তারপর তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করা। এই গোটা ব্যাপারটাকে আমরা গোয়াল ঘরে গুঁতোগুঁতি হিসাবেই দেখছি। তৃণমূলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”

‘AI দিয়ে বিভেদ তৈরির চেষ্টা’
তবে, অডিওর গলা যে তাঁর, তা মানতে নারাজ সুকান্ত। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কথায়, “এই গলা আমার নয়, এআই দিয়ে করছে। বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে।” অন্যদিকে, এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষও। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমি এখন আন্দামানে রয়েছি। এসব বিষয়ে কিছু জানি না। আর বিজেপির অন্দরে কেউ কাউকে গো ব্যাক বলে না। এসব তৃণমূলী সংস্কৃতি।”