SIR-এর কাজে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে BLO, বেডে বসেই সারছেন কাজ

এক দিকে হাসপাতালের বিছানায় অসুস্থ শরীর, আর অন্য দিকে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) গুরুদায়িত্ব। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও নিজের কাজ থেকে এক মুহূর্তের জন্য সরতে পারলেন না এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। অতিরিক্ত কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া চোপড়া ব্লকের এই BLO হাসপাতালের বেডে বসেই সারছেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ। এই ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে জেলা জুড়ে।
অসুস্থ শরীরেও দায়বদ্ধতা
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের চোপড়া ব্লকের জাগিরবস্তি এলাকার ১৮৮ নম্বর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত BLO হলেন মুস্তাফা কামাল। সম্প্রতি SIR-এর কারণে BLO-দের উপর অস্বাভাবিক কাজের চাপ নিয়ে অভিযোগ উঠছিল রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে। সেই চাপ নিতে না পেরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মুস্তাফা কামাল। বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি জটিল হলে, তাঁকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু এত কিছুর পরেও কাজ থেমে থাকেনি। হাসপাতালের বেডে বসেই ল্যাপটপ নিয়ে এনিউমারেশন পর্বের কাজ করতে দেখা যায় তাঁকে।
মুস্তাফা কামাল জানান,
“ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০০-এর বেশি ফর্ম বিলি করেছি। টানা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম সংগ্রহের পরে রাত জেগে সেগুলি আপলোড করতে হচ্ছে। দৌড়ঝাঁপ ও মানসিক চাপে শরীর খারাপ হলেও প্রথম দিকে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু পা ফুলে যাওয়ায় হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।”
deadline-এর চাপ এবং প্রশ্ন
মুস্তাফা কামাল এই অবস্থাতেও কেন কাজ করছেন? উত্তরে তিনি বলেন, “দায়িত্ব তো সামলাতেই হবে। এখনও অবধি যে ফর্মগুলি পেয়েছি, সেগুলি আপলোড করার চেষ্টা করছি। অসুস্থতার বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে জানানো হয়েছে। তিনি বাকি কাজের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”
৯ ডিসেম্বর SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা। তার আগে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এনিউমারেশন পর্ব শেষ করার কঠোর নির্দেশ রয়েছে। ফর্ম বিলি, ফিল-আপ, সংগ্রহ এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে ডেটা আপলোড করার বিশাল দায়িত্ব এককভাবে সামলাতে হয় BLO-দের।
চোপড়ার BLO-এর এই ছবি BLO-দের একাংশের মধ্যে থাকা ক্ষোভকে আরও উস্কে দিল। তাঁদের প্রশ্ন, দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে এত বড় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি একজন কর্মীর স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও মানসিক স্বস্তি নিয়ে কমিশনের কোনো ভাবনা নেই?
অসুস্থ শরীরেও মুস্তাফা কামালের এমন নিবেদিত প্রাণ কাজ সমাজের কাছে এক চরম বার্তা দিচ্ছে— কর্তব্য এবং দায়িত্ববোধের। কিন্তু এই দায়বদ্ধতা কি অতিরিক্ত চাপের ফল, সেই প্রশ্নও উঠছে তীব্রভাবে।