বাবা রাধাকান্ত না রাধাপদ? দু’দেশের তালিকায় দু’রকম নাম! ‘চক্রান্তের শিকার’ বলে দাবি অভিযুক্ত নেতার, তদন্তের নির্দেশ

ভোটার তালিকায় গরমিল এবং বিদেশি ভোটারের হদিসের মধ্যেই এবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) পঞ্চায়েত সদস্য হয়েও বিজেপি নেতা সুভাষচন্দ্র মণ্ডল ভারত ও বাংলাদেশ, দু’দেশেরই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্বরূপনগরের বিথারী-হাকিমপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
দু’দেশের ভোটার তালিকায় নাম
বিথারী-হাকিমপুর পঞ্চায়েতের ১০০ নম্বর বুথের বিজেপি সদস্য সুভাষচন্দ্র মণ্ডলের এই ‘কীর্তি’ ফাঁস হওয়ার পর গেরুয়া শিবিরে চরম অস্বস্তি বেড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমে পড়েছে এবং অবিলম্বে ওই বিজেপি নেতার পঞ্চায়েত সদস্য পদ খারিজের দাবি তুলেছে।
-
বাংলাদেশের ঠিকানা: জানা গিয়েছে, সুভাষ মণ্ডলের নাম বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার রুদ্রপুরের ভোটার তালিকায় উজ্জ্বলভাবে জ্বলজ্বল করছে। সেখানে তাঁর ঠিকানা কলারোয়া উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের ৫৫ নম্বর বুথের ৩৬১ সিরিয়াল নম্বরে নথিভুক্ত।
-
ভারতের ঠিকানা: অন্যদিকে, ভারতের ২০২৫ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় স্বরূপনগর বিধানসভার অন্তর্গত ১০০ নম্বর বুথের ৫০২ নম্বর সিরিয়ালে তাঁর নাম রয়েছে।
-
বাবার নামে গরমিল: যদিও দু’দেশের তালিকায় তাঁর বাবার নামে গরমিল রয়েছে। বাংলাদেশের তালিকায় বাবার নাম ‘রাধাকান্ত মণ্ডল’ দেওয়া থাকলেও ভারতের ভোটার তালিকায় তা ‘রাধাপদ মণ্ডল’ হিসেবে নথিভুক্ত।
পঞ্চায়েত সদস্য পদে প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে, দু’দেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হলেন? বর্তমানে তিনি বিথারী-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য।
তৃণমূলের স্বরূপনগর উত্তর ব্লকের সভাপতি জিয়াউর রহমান সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “বিজেপি নেতা সুভাষচন্দ্র মণ্ডল ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকেন। তাঁর বৈধ কাগজপত্র না-থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বিজেপি নেতাদের মাধ্যমে তিনি ভারতের ভোটার হন এবং পঞ্চায়েত সদস্যও হয়ে যান। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, তাঁর পদ খারিজ করা হোক এবং যাঁদের মদতে তিনি এদেশে ভোটার হলেন, তাঁদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।”
অভিযুক্ত বিজেপি নেতার সাফাই
যদিও অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সুভাষচন্দ্র মণ্ডল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি খুব অল্প বয়সেই ভারতে এসে স্বরূপনগরে থাকতে শুরু করেছি। আমার সবকিছুই এখানে। তারপরও কীভাবে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, তা বুঝে ওঠতে পারছি না। এর পিছনে কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে।” তিনি জানান, তিনি সিএএ-তে আবেদন করার কথা ভাবছেন এবং তৃণমূল রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। তবে তিনি ঠিক কত সালে ওপার বাংলা থেকে এদেশে এসেছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
স্থানীয় ১০০ নম্বর বুথের বিএলও সুমন মণ্ডল বলেন, “আগে জানতাম না। এনুমারেশন ফর্ম দেওয়ার পর জানতে পারি উনি দু’দেশের ভোটার। আমার কাছে পদক্ষেপ করার এক্তিয়ার নেই। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।” স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।