সপ্তাহ জুড়ে তলব সুজিত বসুর পরিবারকে! স্ত্রী, কন্যা ও জামাইয়ের পর ইডির নজরে ছেলের আর্থিক লেনদেন

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর পরিবার ফের শিরোনামে এসেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একে একে ইডির (Enforcement Directorate) নজরে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। এবার তলব করা হয়েছে মন্ত্রী সুজিত বসুর পুত্র সমুদ্র বসুকে।

পরিবারকে নিয়ে তৎপর ইডি:

পুত্র হাজিরা এড়ালেন: বৃহস্পতিবার ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল সুজিতের পুত্র সমুদ্র বসুর। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কাজের কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি এবং অন্য কোনও দিন দপ্তরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

স্ত্রীও অনুপস্থিত: সমুদ্র বসুর ঠিক আগের দিন, বুধবারও হাজিরা দেননি সুজিত বসুর স্ত্রী। তিনিও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইডিকে চিঠি পাঠান।

কন্যা-জামাইয়ের হাজিরা: অন্যদিকে, সপ্তাহের শুরুতেই ইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিতের কন্যা মোহিনী বসু। তিনি নথিপত্র নিয়ে তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার মোহিনীর স্বামীকেও তলব করা হয়েছিল এবং তিনি হাজিরা দেন।

সূত্রের দাবি, সুজিত বসুর কন্যা এবং তাঁর স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্কে কিছুদিন আগেই বিচ্ছেদ হয়েছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন যে, জামাইয়ের পরিবারের ব্যবসায় পুর নিয়োগ দুর্নীতির কোনো টাকা ব্যবহার হয়েছিল কি না।

তল্লাশি ও মন্ত্রীর মন্তব্য:

এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার পালিয়ে যাওয়ার লোক নয় এবং তাঁরা তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করবেন।

তবে ইডির তৎপরতা এখানেই থামেনি। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসেই ইডি লেকটাউনে সুজিত বসুর দু’টি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল এবং মন্ত্রীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিল। সম্প্রতি তদন্তে নতুন করে গতি এনে সল্টলেক সেক্টর ওয়ানে সুজিতের অফিস এবং গোলাহাটায় তাঁর পুত্রের ধাবাতেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।

ক্রমাগত তলব, হাজিরা ও তল্লাশির জেরে পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নতুন নতুন মোড় তৈরি হচ্ছে। তদন্তকারীদের নজর এখন সুজিত বসুর পরিবারের আর্থিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক যোগসূত্রের দিকে রয়েছে।