তেলেভাজা থেকে মুখ ফেরাচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালি! শিল্পাঞ্চলে লুচি-পুরির জায়গা দখল করছে ইডলি-ধোসা

শিল্পাঞ্চলের জনপ্রিয় নাস্তা লুচি, পুরি ও নানান তেলেভাজা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন স্বাস্থ্য সচেতন শহরবাসী। বেশি তেলযুক্ত খাবারের বদলে এখন তাদের ঝোঁক বাড়ছে দক্ষিণী খাবারের দিকে। জলখাবার, মধ্যাহ্নভোজন বা নৈশভোজের থালিতেও জায়গা করে নিচ্ছে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর ধোসা, ইডলি, উপমা-সহ নানান দক্ষিণ ভারতীয় পদ।

চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে দোকান:

পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে গত কয়েক বছরে দক্ষিণী খাবারের দোকান হু হু করে বেড়ে চলেছে। শহরের অলিগলি, মোড়ের মাথা, বাজার থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার রেস্তোরাঁ—সবখানেই মিলছে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় খাবারের নানান আইটেম। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদা থাকায় রাস্তার ধারে ঠেলাগাড়ি থেকে বড় বড় রেস্তোরাঁ পর্যন্ত ওই খাবার খেতে ভিড় করছেন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ।

দুর্গাপুরে বহু কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল থাকায় নিত্যদিন বহু চাকুরিজীবী এই শহরে আসেন। ব্যস্ত জীবনে তাঁদের ব্রেকফাস্ট এবং স্ট্রিট ফুডের চাহিদা ব্যাপক। সাধারণত জলখাবার বলতে এখানে লুচি, পুরি বা চপ মুড়ি পাওয়া যায়। কিন্তু ওই সমস্ত খাবারে তেলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা প্রতিদিন খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়।

কেন বাড়ছে দক্ষিণী খাবারের জনপ্রিয়তা?

দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার, বিধাননগর ও বেনাচিতি বাজার এলাকায় গত ৩০-৪০ বছর ধরে দক্ষিণ ভারতের খাবারের ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ রয়েছে। এই রেস্তোরাঁগুলিতে মেলে ইডলি-সাম্বর, ধোসা, উপমা ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যকর উপাদান: এই খাবারগুলি সুজি ও চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি, আর সাম্বারে ডাল-সহ নানান শাকসবজি এবং কারিপাতা থাকে। এতে তেলের ব্যবহার প্রায় থাকেই না, ফলে নাস্তাগুলি স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

কম দাম: অন্যান্য তেলেভাজা খাবারের তুলনায় দামেও এই নাস্তাগুলি সস্তা, ফলে পেট ভরে খাওয়া যায়। এই কারণেও মানুষ বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

বর্তমানে শুধু রেস্তোরাঁতেই নয়, শহরের অলিগলিতে ঠেলাগাড়ি নিয়ে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়েও ইডলি, ধোসা বিক্রি করছেন বহু ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু ব্যবসায়ীও এই চাহিদা দেখে দুর্গাপুরে ব্যবসা জমিয়ে তুলেছেন। গরম বা শীতকাল, সারা বছর এই খাবারের চাহিদা থাকায় ধীরে ধীরে দক্ষিণী খানায় মজছে শহরবাসী।