পেটে গুলি নিয়েও শেষ নির্দেশ! কে ছিলেন দু’বার গ্যালান্ট্রি মেডেল পাওয়া হক ফোর্সের এই বীর অফিসার?

একের পর এক মাওবাদী বিরোধী অভিযানে পরপর দুই দিন বড় সাফল্য পেলেও, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শহিদ হলেন মধ্যপ্রদেশের হক ফোর্সের ইন্সপেক্টর আশিস শর্মা (৪০)। তিনি গত কয়েক বছর ধরে মাওবাদী দমন অভিযানের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।

মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামরাজু জেলায় শীর্ষ মাওবাদী নেতা মাদভি হিডমা-সহ চার সহযোগী খতম হওয়ার পরদিন বুধবার ফের অভিযান শুরু হয়। এদিন সকালে ছত্তিসগড়–মধ্যপ্রদেশ–মহারাষ্ট্রের সংযোগস্থল কাঙ্ঘুরার ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা মাওবাদীদের একটি দলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নামে তিন রাজ্যের নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন বালাঘাট জেলার পরিচিত মুখ ইন্সপেক্টর আশিস শর্মা।

বাহিনীর অগ্রগতি টের পেয়ে আচমকাই মাওবাদীরা গুলি চালাতে শুরু করে। প্রচণ্ড গুলির লড়াইয়ের মধ্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আশিস। ঠিক সেই সময়ই মাওবাদীদের একটি গুলি এসে তাঁর পেটে বিঁধে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি সহকর্মীদের সুরক্ষিত জায়গায় পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়ে যান। পরে তাঁকে দ্রুত রাজনন্দগাঁওয়ের ডোনগারগড় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে বড় হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু তার আগেই এই বীর আধিকারিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মধ্যপ্রদেশের স্পেশাল ডিজি (মাও দমন অপারেশন) পঙ্কজ শ্রীবাস্তব জানান, “হক ফোর্সের অন্যতম সেরা ও সাহসী অফিসার ছিলেন আশিস। বহু অভিযান তাঁর নেতৃত্বে সফল হয়েছে। দু’বার গ্যালান্ট্রি মেডেল পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের সফল এনকাউন্টারে মাদভি হিডমা-সহ চারজন খতম হওয়ার পরদিন বুধবার মারেদুমিল্লির জঙ্গলে গুলির লড়াইয়ে আরও তিন মহিলা মাওবাদী-সহ মোট সাতজন খতম হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং বিপুল নথি উদ্ধার হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাউন্দার জঙ্গলে তিন মহিলা মাওবাদীকে খতম করার সফল অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে প্রশংসা এবং প্রমোশন পেয়েছিলেন আশিস শর্মা। তাঁর সহকর্মীরা বলেন, “মাওবাদী দমনে তিনি ছিলেন আমাদের ফ্রন্টলাইন কমান্ডার।”

দুই দিনের এই অভিযানে মোট ১৩ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনী দাবি করছে, দক্ষিণ ছত্তিসগড় থেকে অন্ধ্র প্রদেশ সীমান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। তবে আশিস শর্মার মতো অভিজ্ঞ অফিসারের মৃত্যু বাহিনীর কাছে বিরাট ক্ষতি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতাদের মৃত্যু মাওবাদী সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশলকে দুর্বল করবে। সংঘর্ষ ও সাফল্যের মাঝেই দেশ স্মরণ করছে শহিদ ইন্সপেক্টর আশিস শর্মাকে।