SIR আবহে সংহতি দিবস! সংখ্যালঘুদের সঙ্গে এবার মাঠে নামছে ছাত্র-যুব, কেন বদল হল দায়িত্ব?

এসআইআর (SIR) আবহের মধ্যেই আগামী ৬ ডিসেম্বর মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বৃহত্তর সমাবেশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে দলের দুই শীর্ষ নেতৃত্ব—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। বিশেষত, যখন বিরোধী দলগুলি বারবার সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নানা বার্তা দিচ্ছে এবং ৪ ডিসেম্বর এসআইআর-এর একটি ধারা শেষ হওয়ার কথা, ঠিক তারপরেই তৃণমূলের এই রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংখ্যালঘু সেলের পাশাপাশি এবার দায়িত্বে ছাত্র-যুবরা

প্রতি বছর সাধারণত তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেল এই সংহতি দিবসের সমাবেশের মূল দায়িত্বে থাকে। তবে এবার সংখ্যালঘু সেলের পাশাপাশি ছাত্র-যুব সংগঠনকেও বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে এই কর্মসূচি আয়োজিত হবে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই, তবে রাজনীতির কারবারিদের মতে, ভোটের আগে ছাত্র-যুবদের দায়িত্বে এনে তৃণমূল নেতৃত্ব মূলত গোটা দলকে একজোট করার বার্তা দিতে চাইছে।

‘ধর্মের রাজনীতি’র বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে তৃণমূল

তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সংহতি দিবস তৃণমূলের কাছে শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার দিন নয়, বরং বিজেপির ‘ধর্মের রাজনীতি’র বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তোলার কৌশলগত মঞ্চ। দলের তরফে ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ‘সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে। শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, এবারের সভায় ছাত্র-যুব সংগঠনের বড় ভূমিকার ফলে জমায়েত আরও বড় আকার নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসআইআর (SIR) ঘিরে চলা বিতর্ক এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপির লাগাতার আক্রমণের প্রেক্ষিতে, এই সংহতি দিবসের মঞ্চকে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ঘাসফুল শিবির। মমতা ও অভিষেকের উপস্থিতিতে এবারের সমাবেশ আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রণকৌশলের ইঙ্গিত দিতে পারে।