দিল্লি বিস্ফোরণের ৭ দিন পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে জয়শঙ্করের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত মাথা নত করবে না’

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার ঠিক সাত দিন পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোজাসাপটা বার্তা দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)–এর হেডস অফ গভর্নমেন্ট সামিটে তাঁর বক্তব্য বিশ্ব কূটনীতিতে ফের সরগরম সৃষ্টি করেছে।

হামলার ক্ষত যখন এখনও দগদগে, তখন জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত কোনো চাপ, প্রলোভন বা আন্তর্জাতিক লবির কাছে মাথা নত করবে না।

মস্কো থেকে জিরো টলারেন্সের ডাক: মস্কোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা দেখাতেই হবে। সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না, চোখ বন্ধ করে থাকা যায় না, আর কারও হয়ে সাফাইও গাওয়া চলে না।” তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি শব্দে সেই রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যারা সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পুলওয়ামা-উরির ইঙ্গিত: দিল্লির বিস্ফোরণে ১৫ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি এবং বহু আহত হওয়ার পর জয়শঙ্করের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সরাসরি কোনো দেশের নাম না নিলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “ভারত যে তার নাগরিকদের রক্ষা করার অধিকার রাখে, তা আমরা আগেও দেখিয়েছি, ভবিষ্যতেও দেখাব।” তাঁর এই কথায় পুলওয়ামা বা উরি-পরবর্তী ভারতের অপ্রতিরোধ্য প্রতিক্রিয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেয় যে ভারত প্রয়োজনে সামরিক পথেও হাঁটতে পারে।

এসসিও–এর মঞ্চে উপস্থিত রাশিয়া, চিন এবং পাকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মুখে তখন ছিল নীরবতা। বিশেষত পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের মধ্যে সেই অস্বস্তি স্পষ্ট দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জয়শঙ্করের বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিতর্কে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাস কারও পক্ষে নয়, মানবতার বিরুদ্ধে, এবং এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান দৃঢ়।