২০১৬ শিক্ষক নিয়োগ বিতর্ক, অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ায় নতুন বৈষম্য, ফুঁসছে নতুন-পুরনো চাকরিপ্রার্থীরা

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট যখন সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয়, তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শিক্ষক নিয়োগ (WBSSC Recruitment) নিয়ে অস্থিরতা অব্যাহত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) যে নতুন পুনঃনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা অভিজ্ঞতাভিত্তিক অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কারণে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ক্ষোভ কেন? সোমবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের WBSSC দফতরের সামনে নতুন ও পুরনো উভয় পক্ষের পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভে বসেন। তাঁদের ক্ষোভের মূল কারণ:
নতুন প্রার্থীদের দাবি: আন্দোলনকারী সনহিতা সূর বলেন, “৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আমরা অনেকেই পূর্ণ নম্বর পেয়েছি। কিন্তু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর না থাকায় আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। নতুন প্রার্থীদের অভিজ্ঞদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামানোই অন্যায়।”
পুরনো শিক্ষকদের দাবি: কৃষ্ণগোপাল চক্রবর্তী নামে ২০১৬ প্যানেলের এক অভিজ্ঞ শিক্ষক জানান, সরকার যদি নতুনদের সুযোগ দিতে চায়, তবে অতিরিক্ত নতুন পদ তৈরি করতে হবে, তা না হলে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।
আদালতে নতুন মামলা: গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক ও নন-টিচিং কর্মীর নিয়োগ বাতিল করে দিয়েছিল। এরপর আদালত নির্দোষদের জন্য নতুন পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয় এবং সরকার প্রায় ২২,৫০০-এর বেশি নতুন পদ তৈরির ঘোষণা করে। কিন্তু কমিশনের নতুন নিয়মে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর ধার্য করায় এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
এই অভিজ্ঞতা নম্বরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জুন মাসে মামলা হলেও উচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কারণে কোনও নির্দেশ দেয়নি। তবে বর্তমানে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই অভিজ্ঞতা নম্বর নিয়ে ফের নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, “অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা নম্বর পুরো পরীক্ষাকে পক্ষপাতদুষ্ট করেছে। এটি বাতিল হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে, যে সমস্ত ‘নন-টেইন্টেড’ শিক্ষক লিখিত পরীক্ষা পাস করতে পারেননি, তাঁরাও আরও নতুন পদ তৈরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অবশ্য জানিয়েছেন, “সরকার পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আইনজীবীদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।” বিজেপি এই প্রক্রিয়া নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে এবং ফ্রেশার ও অভিজ্ঞদের জন্য আলাদা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে।
WBSSC-কে কেন্দ্র করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া তাই ফের একবার চরম অস্থিরতায় আটকে পড়েছে, যার ফলে রাজ্যের হাজারো বেকার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে।