মড়ক ঠেকাতে ৩ শতাব্দীর প্রাচীন প্রথা, চাঁচলের রক্ষাকালী পুজোয় আজও দেবীকে নিবেদন করা হয় ‘মাছের অন্নভোগ’

প্রায় তিনশো বছর আগে, যখন ভারতবর্ষে রাজতন্ত্র চালু ছিল, তখন প্রবল প্রতাপশালী রাজা ঈশ্বরচন্দ্র রায়চৌধুরীর রাজত্বে চাঁচল ও সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ মড়ক (মহামারী) শুরু হয়। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হতে থাকলে মানুষ প্রাণভয়ে এলাকা ছাড়তে শুরু করে। কথিত আছে, সেই সময় দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রজাবৎসল রাজা ঈশ্বরচন্দ্র কার্তিক সংক্রান্তি তিথিতে এই রক্ষাকালী পুজোর আয়োজন করেন। এর পরেই নাকি মহামারী শেষ হয় এবং সেই থেকে এই পুজো নিরবচ্ছিন্নভাবে হয়ে আসছে।
মাছের অন্নভোগের রহস্যময় প্রথা: প্রথা মেনে সোমবার রাতে চাঁচলের সুকান্ত পল্লি জেলেপাড়ায় এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই পুজোর বিশেষত্ব হল, দেবী রক্ষাকালীকে প্রধান প্রসাদ হিসাবে মাছের অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ জয়দেব ঘোষ জানান, কেন মাছের ভোগ দেওয়া হয়, তার সঠিক কারণ জানা না থাকলেও ছোটবেলা থেকে এই রীতিই চলে আসছে।
মাছ সংগ্রহের স্থান: ভোগের মাছ আনা হয় দেবীর বেদির সামনে থাকা প্রাচীন রানিদিঘি থেকে।
নিয়মভঙ্গের উপায় নেই: জয়দেব ঘোষ বলেন, পুকুর থেকে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়া গেলেও বাইরে থেকে মাছ সংগ্রহ করা হয় বটে, তবে এই পুকুরের অন্তত একটি মাছ প্রসাদ হিসাবে লাগেই। তা না-হলে অন্য কোনও মাছ প্রসাদ হিসাবে গণ্য হবে না।
পুজো কমিটির সভাপতি গোপালচন্দ্র প্রামাণিক জানান, রাজা ঈশ্বরচন্দ্র রায়চৌধুরীর আদেশেই এই পুজোর প্রবর্তন হয়। মাছের সঙ্গে সাতরকম ভাজা, সবজি, খিচুড়ি আর পায়েসও ভোগ দেওয়া হয়। এই পুজোয় চাঁচলবাসী সকলেই অংশ নেন এবং মূলত রক্ষাকালীর আয় থেকেই পুজোর আয়োজন করা হয়।
এ বছর পুজোয় ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কমিটির পক্ষ থেকে দু’হাজার মানুষের জন্য ভোগের ব্যবস্থা করা হলেও, ভক্তের সংখ্যা তা ছাপিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক সরকার জানান, প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো বছরের পুরনো এই পুজোয় সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং রানিদিঘিতে বিসর্জনের পরদিন সন্ধেয় সবাইকে মায়ের প্রসাদ বিতরণ করা হয়।