আতঙ্ক! বাংলার পর কন্নুর, ভোটার তালিকার চাপে ফের BL0-এর রহস্যজনক মৃত্যু? পরিবার ও শিক্ষকদের বিস্ফোরক অভিযোগ!

কেরলের কন্নুরে আবারও এক বুথ স্তরের আধিকারিক (BL0) অনীশ জর্জের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ল। বাংলার হুগলিতে BL0-এর মৃত্যুর পর এবার কেরলে একই ঘটনা ঘটায় ভোটার তালিকা পরিমার্জনের (SIR) প্রক্রিয়ায় কাজের চাপ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পেশায় শিক্ষক অনীশ জর্জের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর তাঁর পরিবারের অভিযোগ— ‘অত্যধিক কাজের চাপেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি।’
পরিবারের দাবি, এসআইআর-এর কাজ শেষ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনীশ ক্রমাগত ফোন পেতেন। নাওয়া-খাওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছিলেন না তিনি। এই ঘটনার পরেই রাজ্য জুড়ে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন ফুঁসে উঠেছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের প্রতিবাদে তারা তিরুবনন্তপুরমে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এবং জেলায় জেলায় জেলাশাসকের দফতরের সামনেও প্রতিবাদ জানায়।
এমনকি, রাজ্যের শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকশন কাউন্সিল-সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এসআইআর-এর কাজ ‘বয়কট’ করার ডাক দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে আকাশছোঁয়া কাজ করার অমানবিক চাপই বিএলও-দের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে এই ঘটনায় যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক মোড়। কেরলের বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন এই মৃত্যুর জন্য সিপিএম কর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস কর্মীর সঙ্গে ফর্ম বিলি করার সময় সিপিএম কর্মীরা অনীশ জর্জকে হুমকি দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও সিপিএম যৌথভাবে কংগ্রেস ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও শাসকদল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সিপিএম নেতা এমভি জয়রাজন বলেছেন, জর্জ হয়তো মনে করেছিলেন জীবন শেষ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তিনি নির্বাচন পর্যন্ত এই এসআইআর-এর কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।