হাসিনার সত্যিই ফাঁসি হবে? ভারত কি প্রত্যর্পণে বাধ্য? জেনেনিন বিস্তারিত

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর, এখন তিনি দিল্লিতে ভারতের দেওয়া সেফ হাউসে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি চরম কূটনৈতিক ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, হাসিনাকে কি এবার মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হবে ভারত?
ফের প্রত্যর্পণের দাবি জানাবে ঢাকা
গত বছর গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। সেই সময় থেকেই ইউনূস সরকার তাঁকে ফেরত চেয়ে একাধিকবার কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরেও ঢাকা নয়াদিল্লিকে জানিয়েছিল, সরকারি আইনি প্রক্রিয়ায় হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়া হচ্ছে, কারণ তাঁর বিরুদ্ধেই গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ভারত সেই দাবিতে সাড়া দেয়নি।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আইসিটি মানবতাবিরোধী গুরুতর অপরাধে হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশের আইনি উপদেষ্টা ভারতের হাতে রায়ের সম্পূর্ণ কপি তুলে দেবেন।
একই সঙ্গে, হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকা ফের একবার চিঠি দেবে নয়াদিল্লিকে।
এই পরিস্থিতিতে হাসিনাকে রক্ষা করার অর্থ, ভারতকে অপরাধে সহায়ক হিসেবে তকমা দিতে পারে ইউনূস সরকার।
প্রত্যর্পণ চুক্তির কঠিন শর্ত
ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা নিজেই। এই চুক্তিটি এখন নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হলো:
১. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: নয়াদিল্লি যদি মনে করে হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার মধ্যে কোনও গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, তাহলে তারা প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
২. গুরুতর অপরাধ: চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যেহেতু হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা ট্রাইব্যুনাল সত্য বলে প্রমাণ করেছে এবং সাজা দিয়েছে, তাই তাঁর প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হতে পারে।
হাসিনাকে রক্ষা করার আইনি ফাঁক
পর্যবেক্ষকদের মতে, আইন থাকলেও আইনের ফাঁকও থাকে। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে আরও কিছু বিকল্পের কথা বলা হয়েছে, যা নয়াদিল্লি ব্যবহার করতে পারে:
বিপদের আশঙ্কা: ভারত যদি মনে করে ঢাকায় ফেরার পর হাসিনার ক্ষেত্রে কোনও বিপদের আশঙ্কা থাকবে অথবা তিনি অন্যায্য ব্যবস্থার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তারা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করতে পারে।
চুক্তি বাতিল: ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তিতে একটি ধারা আছে, যা কোনও পক্ষকে চুক্তি বাতিল করার অনুমতি দেয়। তবে এটি কূটনৈতিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তুলবে এবং এটি একটি সময়সাপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশই মনে করেন, শেখ হাসিনা কয়েক দশক ধরে ভারতের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু। সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযান এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলে স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ভারত এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে হঠাৎ করে ফেরত পাঠিয়ে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইবে না। নয়াদিল্লি এখন রাজনৈতিক শত্রুতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে হাসিনাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে পারে।
সাজা ঘোষণার পরে হাসিনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল, বা এই মৃত্যুদণ্ডের সাজা আদৌ কার্যকর হবে কিনা, সেদিকেই এখন নজর সকলের।