পরকীয়া সন্দেহে হাওড়ার বাঁকড়ায় যুবককে কাঁচি দিয়ে হামলা, গুরুতর জখম প্রতিবেশী হাসপাতালে ভর্তি

পরকীয়ার সন্দেহের জেরে খুন ও আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যেই এবার খাস কলকাতার উপকণ্ঠে হাওড়ার বাঁকড়ায় ঘটল এক হাড়হিম করা ঘটনা। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহে মূল অভিযুক্ত শেখ শাহরুখ কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে আঘাত করে মহম্মদ সারোয়ার নামের এক যুবককে ক্ষতবিক্ষত করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সারোয়ারকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ:

অভিযুক্তের পরিচয়: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত শেখ শাহরুখ বাঁকড়ার পশ্চিম পাড়ায় দর্জির কাজ করে। প্রায় ৯ বছর আগে তার বিয়ে হয়। সে একসময় মুম্বইয়ে থাকত এবং বছর দুয়েক আগে হাওড়ায় ফিরে আসে।

সন্দেহ: বাড়ি ফেরার পরই শাহরুখের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। অভিযুক্ত সন্দেহ করতে থাকে যে তার স্ত্রী পরিচিত প্রতিবেশী মহম্মদ সারোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

হামলার দিন: সোমবার দুপুর নাগাদ সারোয়ারকে দেখতে পেয়ে আচমকা রেগে যায় শাহরুখ। তেড়ে এসে হামলা চালায় এবং কাপড় কাটার কাঁচি নিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে।

আহত উদ্ধার: আহত যুবকের চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং সারোয়ারকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। স্থানীয়দের দাবি, বাকবিতণ্ডা ও হামলার মুহূর্ত সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

পরিবারের বক্তব্য ও পুলিশের ভূমিকা:

অভিযুক্তের পরিবারের দাবি: অভিযুক্তের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, মাস ছয়েক ধরে শাহরুখ তার স্ত্রীকে সন্দেহ করতে শুরু করে এবং এই নিয়ে একাধিকবার স্ত্রীর সঙ্গে চরম বচসা ও মনোমালিন্য চলছিল। অভিযুক্তের বাবা বলেন, “বৌমাকে সন্দেহ করত ছেলে। সারোয়ারের সঙ্গে ওর সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করত।”

সারোয়ারের আত্মীয়ের দাবি: সারোয়ারের আত্মীয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, শাহরুখের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং দুজনার মধ্যে এমন কোনো সম্পর্ক নেই। কেবল সন্দেহের জেরেই এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটেছে।

পুলিশের পদক্ষেপ: অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শেখ শাহরুখ চম্পট দিয়েছে, এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে।