ভোটার তালিকা সংশোধনীর কারণে পিছিয়ে গেল রাজ্য বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু

এই বছর রাজ্য বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে বসতে চলেছে। বিধানসভা ও নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে শুরু হওয়ার পরিবর্তে অধিবেশনটি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে।

অধিবেশন পিছিয়ে যাওয়ার কারণ:

অধিবেশন পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া।

প্রক্রিয়ার সময়কাল: গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই SIR প্রক্রিয়া ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে।

বিধায়কদের ভূমিকা: এই সংশোধনী প্রক্রিয়ায় গ্রাউন্ড লেভেলের কাজ, যাচাই-বাছাই, ভোটার নিবন্ধন ও সংশোধন—সব ক্ষেত্রেই বিধায়কদের সক্রিয় উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক ব্যস্ততা: আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং আইএসএফ-সহ সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকবে। বিধায়কদের SIR-এর কাজে অংশগ্রহণে সুবিধা করে দিতেই প্রশাসনিক মহলের পক্ষ থেকে অধিবেশন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সময়সূচি পরিবর্তন:

পরিষদীয় দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ১৪ নভেম্বর এবং পরে ২২ নভেম্বর থেকে অধিবেশন শুরু করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা সংশোধনীর কারণে শেষ পর্যন্ত মত বদলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অধিবেশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধিবেশনটি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো ঘোষণা করা হয়নি।

অধিবেশনের রাজনৈতিক গুরুত্ব:

শেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন: আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই শীতকালীন অধিবেশনই বর্তমান বিধানসভার শেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মঞ্চ: এই কারণে রাজনৈতিকভাবে এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসক এবং বিরোধী উভয় পক্ষই এটিকে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আইন প্রণয়ন: বিধানসভার এক আধিকারিক জানান, এই অধিবেশনে রাজ্য সরকার কোন কোন বিল আনতে পারে এবং কোন প্রস্তাবনা গৃহীত হতে পারে, তা নিয়ে আইন দফতর ও নবান্নের মধ্যে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, এই অধিবেশনের পর আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ সংক্ষিপ্ত অধিবেশন বসবে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করবে।