শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড, ভারতের প্রতিক্রিয়া এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে মন্তব্য

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-বাংলাদেশ (ICT-BD) কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ভারত সরকার তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে যে, তারা এই রায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
ভারতের সরকারি বিবৃতি:
ভারত সরকারের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের কথা ‘নোট’ করেছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে:
মূলনীতি: ভারত শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেয়। বিদেশ মন্ত্রক বলেছে যে, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সর্বদা এই মূল্যবোধের সমর্থনে থাকবে।
গঠনমূলক সংলাপ: বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভারত বাংলাদেশের প্রত্যেক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাবে।
শেখ হাসিনার সাজা এবং প্রেক্ষাপট:
রায়: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছর (২০২৪) জুলাই মাসে তৎকালীন হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ঘটা গণবিক্ষোভের সময়কার “মানবতাবিরোধী অপরাধ”-এর জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
দমন-পীড়নের অভিযোগ: ট্রাইব্যুনাল রায় পাঠ করে জানিয়েছে যে, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়নের পেছনে হাসিনার হাত ছিল বলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে।
সাজার কারণ: হাসিনাকে মূলত নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ, উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়াকে হত্যার দিকে পরিচালিত করে এমন প্রচার চালানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জুলাই বিদ্রোহ: জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের একটি রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে যে “জুলাই বিদ্রোহ” নামে পরিচিত প্রায় এক মাস ধরে চলা এই আন্দোলনে ১,৪০০ জন নিহত হন।
বর্তমান অবস্থান: ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা তাঁর সরকারের পতনের পর থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভারতে বসবাস করছেন। আদালত তাঁকে আগেই পলাতক ঘোষণা করেছিল।