“ফুল মার্কস,তবু No ইন্টারভিউ!”-SSC-র লিস্ট নিয়ে ‘নতুন’দের আন্দোলন, বলপূর্বক তুলে দিলো পুলিশ

ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সল্টলেক চত্বরে। এসএসসি (SSC) দফতরে নতুন ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের পর অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় রীতিমতো উত্তাল হয়ে উঠল চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন। সল্টলেকের আচার্য সদনের সামনে ‘নতুন’ চাকরিপ্রার্থীরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, পুলিশ এসে জোর করে বিক্ষোভকারীদের তুলে দেয় এবং সেই সময় পুলিশ ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তুমুল ধাক্কাধাক্কিও হয়।

‘টেন্টেড’ প্রার্থীদের তালিকায় স্থান!
বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থীদের মূল অভিযোগ, সদ্য প্রকাশিত ইন্টারভিউ তালিকায় একাধিক ‘টেন্টেড’ বা অযোগ্য প্রার্থীকে স্থান দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার নতুন ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশিত হয় এবং আগামী মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) থেকে ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের দাবি:

অভিজ্ঞতার কারণে বাড়তি নম্বর পেয়ে বহু অযোগ্য প্রার্থীর নাম লিস্টে ঢুকে গিয়েছে।

অনেক যোগ্য প্রার্থী, যারা পরীক্ষায় ফুল মার্কস পেয়েছেন, তাদের নাম ইন্টারভিউয়ের তালিকায় নেই।

১০ নম্বরের ‘অভিজ্ঞতা’ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হওয়ার পর নতুন নিয়মে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ১০ নম্বর বরাদ্দ নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন:

“শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নম্বর বরাদ্দের নিয়ম রয়েছে। তাহলে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী কীভাবে বাড়তি নম্বর পেলেন?”

“যাঁরা কেবলমাত্র প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরিতেই ছিলেন, তাঁরা উচ্চমাধ্যমিক লেভেলের পরীক্ষায় অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি নম্বর কীভাবে পেলেন?”

অন্য এক আইনজীবী পার্ট-টাইম শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা নম্বর বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার ফলে ফুল-টাইম যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁর দাবি।

আদালতের দ্বারস্থ চাকরিপ্রার্থীরা, নজর বুধবারের দিকে
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেছেন, ইন্টারভিউ তালিকায় একাধিক বড়সড় ভুল রয়েছে এবং এই বিষয়টি আদালতের নজরে আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা আগামী বুধবার এই মামলার শুনানির আশ্বাস দিয়েছেন।

ক্রমেই ক্ষোভ বাড়তে থাকায়, এখন সকলের নজর আগামী বুধবার আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে। প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন কিনা, সেটাই দেখার।