বিকাশ ভবনের সামনে SSC চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ, অনুমতি না থাকার কারণ দেখিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ

সোমবার বিকেলে বিকাশ ভবনের সামনে ফের উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পথে নামেন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকপদপ্রার্থী চাকরিপ্রার্থীরা। সন্ধ্যা নামতেই এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পরিণত হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে, কারণ পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভের কোনও অনুমতি ছিল না।
চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবিগুলি:
অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর বাতিল: অভিজ্ঞতার নম্বরের বণ্টন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চাওয়া হয়েছে।
সকলের OMR শিট প্রকাশ: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে OMR শিট প্রকাশের দাবি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা: প্রকৃত যোগ্যদের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি।
বিক্ষোভ ও পুলিশের পদক্ষেপ:
দুপুর থেকেই চাকরিপ্রার্থীরা বিকাশ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন—”ন্যায্য চাকরি চাই”, “দুর্নীতি চলবে না”, “স্বচ্ছ নিয়োগ চাই”। তাঁদের অভিযোগ, বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।
কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকর্মীরা একাধিক চাকরিপ্রার্থীকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ: ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে “অমানুষিক” আচরণ করা হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী শিক্ষক বলেন, “আমাদের সঙ্গে অমানুষের মতো আচরণ করেছে পুলিশ। আমরা তো শুধু ন্যায্য চাকরি চাইতে এসেছি। এভাবে আমাদের টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হবে কেন?”
পুলিশের বক্তব্য: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সরকারি দফতরের সামনে জমায়েত করা এবং পথ অবরোধ করার কারণে তাঁদের সরানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই কমপক্ষে একজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা:
বিকাশ ভবন থেকে সরানো হলেও, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা সেন্ট্রাল পার্ক মেট্রো স্টেশনে এখনও অবস্থান করছেন। তাঁদের দাবি, নিয়োগ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁদের বক্তব্য—এটা শুধু চাকরির লড়াই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার গুণগত মান রক্ষারও লড়াই।
চাকরিপ্রার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পুলিশের এই আচরণের বিরুদ্ধে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এই ঘটনার পর স্পষ্ট যে SSC নিয়োগ নিয়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রশ্নগুলি এখনও অমীমাংসিত।