প্রাক্তন প্রেমিকার পোস্টে ‘লাভ’ রিয়্যাকশন, দাম্পত্য কলহ গড়াল হাতাহাতিতে; ধূপগুড়িতে গুরুতর আহত ৩ জন

জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের ভেমটিয়া এলাকায় স্বামীর প্রাক্তন প্রেমিকার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে সংসারে ‘অগ্নিকাণ্ড’ ঘটল। স্বামীর পুরনো প্রেমের প্রতি ‘আশক্তি’ মেনে নিতে না-পেরে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন দম্পতি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় বধূ ও তাঁর ননদ-সহ মোট তিনজনের মাথা ফেটেছে এবং দু’পক্ষই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:

পেশায় রাজমিস্ত্রি শাহজাহান আলি তাঁর স্ত্রী রুবিনা পারভিনের সঙ্গে সুখে সংসার করছিলেন। তাঁদের একটি ছেলেও আছে। তবে সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ার কয়েকটি পোস্টকে ঘিরে স্বামীর প্রতি রুবিনার সন্দেহ দানা বাঁধে।

অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে শাহজাহান তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করতে শুরু করেছিলেন। রুবিনা বারণ করা সত্ত্বেও গত শনিবার প্রাক্তন প্রেমিকার একটি ছবিতে শাহজাহান ‘লাভ’ রিয়্যাকশন দেন বলে অভিযোগ।

বিস্ফোরণ: এটি রুবিনার নজরে আসার পরই স্বামীর সঙ্গে তাঁর বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। তখনই স্বামীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিকার সাম্প্রতিক মেসেজ ও ফোনালাপের প্রমাণ সামনে আসে, যা দেখে রুবিনা তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন।

হাতাহাতি: স্বামীর ‘পরকীয়া’ সম্পর্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শাহজাহান ও তাঁর বোন রুবিনার উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। শুরু হয় হাতাহাতি।

সংঘর্ষ ও আহত:

রুবিনার দিদি বিউটি পারভিনকে ঘটনাটি জানানো হলে, তাঁদের বাড়ির লোকজন সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুই বাড়ির লোকজন মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, সেই সময় শাহজাহানের বোন রাবেয়া খাতুন বালতি দিয়ে আঘাত করলে রুবিনা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। রুবিনা ছাড়াও তাঁর পরিবারের আরও এক সদস্য এবং শাহজাহানের বোনও মারপিটে জখম হন। আহত তিনজনকেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রুবিনা পারভিনের অভিযোগ:

রুবিনা পারভিন অভিযোগ করেন:

“আমার স্বামী এখনও প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। অনেকবার বারণ করা সত্বেও কোনও কথাই শোনেনি।”

“সে তার প্রাক্তন প্রেমিকার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করে। ব্লক করে দেওয়ার পরেও আবার ব্লক খুলে দিয়েছে।”

তিনি মেসেজ দেখে ফেলেন যেখানে মেয়েটি তাঁর স্বামীকে ‘কী করো সোনা!’ বলে মেসেজ করেছিল।

প্রতিবাদ করায় স্বামী বলেন, “আমি যা ইচ্ছা তাই করব।”

শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর পিসি, দাদু, দিদিকে মেরেছেন এবং স্বামী ও ননদও তাঁকে মারধর করে।

ননদ রাবেয়া খাতুনের পালটা অভিযোগ:

অন্যদিকে, রুবিনার ননদ রাবেয়া খাতুন পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন:

“আমার ভাই একটি মেয়ের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লাভ রিঅ্যাক্ট দিয়েছিল। সেটা নিয়েই ঝগড়া।”

তিনি রুবিনাকে সন্দেহ করলে মেয়েটিকে ব্লক করে দিতে বলেন।

এরপর ভাই রুবিনাকে বলেন, “তোমাকেও তো অনেক ছেলে মেসেজ করে।”

এটা শোনার পরই রুবিনা নিজের মোবাইল নিজেই ভেঙে দেন, যাতে সেখানে কোনও মেসেজ তাকে দেখাতে না-হয়।

বউদি (রুবিনা) ‘ছেলেকে নিয়ে মরে যাব’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

রাবেয়া বলেন, ঝগড়াটি চূড়ান্ত আকার নেয় যখন দুই পরিবারের লোকেরা আসেন।

পুলিশের পদক্ষেপ:

ধূপগুড়ি থানার আইসি অনিন্দ্য ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “ভেমটিয়া এলাকায় পারিবারিক অশান্তির ঘটনার পর দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।”