হাসিনা কি যুদ্ধাপরাধী? সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মাস্টারমাইন্ড আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড চাইলেন প্রসিকিউটর, দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ, সোমবার, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ও অস্থিরতার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগেই রাজধানী ঢাকায় দুটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) হাসিনা ও অন্য দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসহ মোট পাঁচটি গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই রায় দেবে। হাসিনা এবং কামালকে পলাতক ঘোষণা করে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, অন্যদিকে মামুনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ার কারণে ট্রাইব্যুনাল আজ রায় দেবে।

ছেলে সজীব ওয়াজেদের হুঁশিয়ারি

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ রবিবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, যদি তাঁদের দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া না হয়, তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বাধা দেবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই প্রতিবাদ অত্যন্ত সহিংস রূপ নিতে পারে।

ওয়াজেদের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন 78 বছর বয়সী হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান প্রসিকিউটর হাসিনাকে এই অপরাধগুলোর ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ (Mastermind) আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, হাসিনার সমর্থকরা এই বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করছেন।

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট ও বর্তমান অবস্থান

জাতিসংঘের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, যা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক রক্তপাত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে আছেন। ওয়াজেদ জানিয়েছেন, ভারত তাঁকে ‘রাষ্ট্রপ্রধানের মতো’ সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করছে। ওয়াজেদ বলেন, “আমরা জানি ঠিক কী রায় আসতে চলেছে। তারা তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করবে, এবং সম্ভবত মৃত্যুদণ্ডও দেবে। কিন্তু তারা আমার মায়ের কী করতে পারে? আমার মা ভারতে নিরাপদে আছেন। ভারত তাঁকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে।”