নীতীশ কুমার আজ রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন! বিহারে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু, শপথ গ্রহণ কবে?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (NDA)-এর বিশাল জয়ের পর আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হবে এবং তারপরই নীতীশ কুমার রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর একজন প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, বিদায়ী বিধানসভা ভেঙে দেওয়া এবং রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য নীতীশ কুমারকে “অনুমোদনের” জন্য একটি প্রস্তাব এই বৈঠকে পাস করা হবে। রবিবার প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক বিনোদ সিং গুঞ্জিয়াল নবনির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের হাতে তুলে দেওয়ার পরই এই প্রক্রিয়া শুরু হলো।

এনডিএ-র শক্তি ও আসন ভাগাভাগি

 

সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টি আসনে জয়ী হয়ে একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভ করেছে।

দল আসন সংখ্যা
বিজেপি ৮৯
জেডিইউ ৮৫
এলজেপি(আরভি) ১৯
হাম ও আরএলএম
মোট ২০২

মহাজোট মাত্র ৩৫টি আসনে জয়ী হতে সক্ষম হয়েছে।

শপথগ্রহণের প্রস্তুতি: প্রধানমন্ত্রী মোদীর উপস্থিতি

 

জেডিইউর কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা বিহারে সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং রবিবার নীতীশ কুমারের সঙ্গেও দেখা করেন। তিনি জানান, “কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠন হবে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেডিইউর এক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্ভবত পটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে একটি জমকালো আয়োজন হবে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।

জেডিইউর দাবি ও জোটের চ্যালেঞ্জ

 

জেডিইউর ওই নেতা জানান, দল নতুন মন্ত্রিসভায় আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, “আগের মন্ত্রিসভায় আমাদের দলের মাত্র ১২ জন মন্ত্রী ছিল। আমরা মন্ত্রিসভায় আরও বেশি আসন চাই, কারণ ২০২০ সাল থেকে আমাদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫-তে পৌঁছেছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, এলজেপি (আরভি) এবং আরএলএম-এর মতো নতুন জোট অংশীদারদের দাবি পূরণ করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে।