কৃষি, ট্যারিফ ও পেটেন্ট! কেন এই ৩ ক্ষেত্রকে আলোচনার বাইরে রাখল ভারত? ভারত-মার্কিন চুক্তির আসল ভেতরের কথা!

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে $500 বিলিয়ন (প্রায় ₹41.6 লক্ষ কোটি) পর্যন্ত বাড়ানোর চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা, যা একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির কারণে থমকে গিয়েছিল, তা এখন সাফল্যের মুখ দেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তি ভারত-ইউকে ট্রেড চুক্তির আদলে ‘টোটলাইজেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে।
এই নতুন কাঠামোয় মূলত চারটি মূল ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতিকে উপকৃত করবে।
টোটলাইজেশন চুক্তি: ভারতীয় পেশাদারদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি
এই চুক্তির প্রধান অংশ হলো ‘টোটলাইজেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’। ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্য-শৈলীর এই চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে দ্বৈত করের বোঝা দূর করা।
-
সুবিধা: এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাদার এবং তাদের নিয়োগকর্তারা দ্বৈত সামাজিক সুরক্ষা দায় থেকে মুক্তি পাবেন।
-
কারা লাভবান: আইটি এবং পরিষেবা খাতে কর্মরত ভারতীয় পেশাদারদের জন্য এটি একটি বিশাল স্বস্তির পদক্ষেপ, যা বৃহত্তর বাণিজ্য প্যাকেজের ভিত্তি স্থাপন করবে।
যে চারটি ক্ষেত্রে সহমত হতে পারে ভারত-আমেরিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিনি-ট্রেড প্যাকেজে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলি অন্তর্ভুক্ত হবে:
-
পরিষেবা বাণিজ্য (Services Trade): ভারতের মূল অগ্রাধিকার হলো পেশাদারদের যাতায়াত সহজ করা। H-1B এবং L-1 ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
-
ডিজিটাল বাণিজ্য ও ডেটা ফ্লো (Digital Trade and Data Flow): নিরাপদ ডেটা স্থানান্তর, ক্লাউড পরিষেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্টের আন্তঃব্যবহার্যতা এই প্যাকেজের অংশ হবে।
-
ম্যানুফ্যাকচারিং ও সাপ্লাই চেইন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের CHIPS আইনের পরিপ্রেক্ষিতে, ইলেকট্রনিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। EV এবং ক্লিন-টেক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে।
-
বিনিয়োগ এবং মার্কেট অ্যাক্সেস: আমেরিকা মেডিকেল ডিভাইস ও ই-কমার্স বাজারে বেশি প্রবেশাধিকার চাইছে। অন্যদিকে, ভারত প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি চায়।
এই তিনটি ‘সংবেদনশীল’ ক্ষেত্র বাইরে থাকবে কেন?
ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে সরকার তিনটি প্রধান ক্ষেত্রকে এই চুক্তি থেকে বাদ দিতে চায়।
-
কৃষি (Agriculture): দেশের কৃষকদের নিরাপত্তা এবং WTO নীতির কারণে, ভারত তার কৃষি বাজারকে আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত নয়।
-
ট্যারিফ হ্রাস (Tariff Cuts): ভারত পণ্য শুল্ক কমানোর বিষয়ে সতর্ক। তাই, ট্যারিফ সংক্রান্ত আলোচনা এই চুক্তির আওতার বাইরে থাকবে।
-
IPR এবং পেটেন্ট নিয়ম: আমেরিকার কঠোর মেধা সম্পত্তি অধিকার (IPR) সংক্রান্ত অবস্থান ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের জন্য অনুকূল নয়। তাই এই বিষয়টি আপাতত চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ: উভয় দেশের সরকার এবং কর্পোরেট মহল দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে। ‘টোটলাইজেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ এই প্রক্রিয়া শুরু করার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।