২০২৬ নির্বাচনের আগে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করার ডাক, আগামীকাল থেকে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের শ্রমিক সমাবেশ শুরু

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে আগামীকাল সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে শ্রমিক সমাবেশ শুরু করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। রাজ্যের নির্মাণ, মৎস্য, চা, বিদ্যুৎ এবং কৃষি–শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই শাসক দল এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের অসংগঠিত শ্রমিক শ্রেণির সংখ্যা বিপুল এবং এদের মধ্যেই প্রায় আড়াই কোটি ভোটার রয়েছে—যা আগামী নির্বাচনী সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

কর্মসূচির স্থান ও সময়সূচি:
স্থান: তৃণমূলের শ্রমিক সেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের নানা প্রান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশ আয়োজন করা হবে। কাঁথি, জলপাইগুড়ি, ফারাক্কা, হুগলির শ্রীরামপুর—এই সমস্ত শ্রমনির্ভর এলাকাগুলিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

সময়সীমা: আগামীকাল থেকেই পর্যায়ক্রমে জেলা–ওয়ারি সভার সূচি শুরু হবে এবং তা চলবে আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

মেগা সমাবেশ: জানা যাচ্ছে, আগামী জানুয়ারি মাসে কলকাতার শহীদ মিনার ময়দানে হবে একটি ‘মেগা সমাবেশ’। এই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে দলের দুই শীর্ষ নেতানেত্রী— তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—উপস্থিত থাকতে পারেন।

তৃণমূলের বার্তা: ‘কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই’
তৃণমূলের প্রথম সারির এক শ্রমিক নেতা বলেন, “রাজ্যের শ্রমিকরা সবসময়ই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি। অসংগঠিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় রাজ্য সরকার যে পরিমাণ প্রকল্প করেছে, কেন্দ্র সেগুলিকে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই শ্রমিকদের সামনে সত্যিটা তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় সরকার শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অধিকাংশই কাগুজে। মজুরি, পেনশন, নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা বঞ্চিত। তৃণমূল সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই শ্রমিক–কেন্দ্রিক কর্মসূচি সরাসরি নির্বাচনমুখী। অসংগঠিত শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ভবিষ্যতে দলকে ভোট ময়দানে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

শ্রমিকদের সমস্যা ও সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ থেকেও রাজনৈতিক বার্তা ছড়াতে চাইছে তৃণমূল।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, বিজেপির সমান্তরাল শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রমের মোকাবিলা ও মাঠদখল করতেও তৃণমূল এই উদ্যোগ নিয়েছে।

আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এই শ্রমিক সমাবেশই রাজ্যে নির্বাচনী সুর আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।