৫০ বছর পর মুক্তি পাচ্ছে ‘শোলে আনকাট’! ক্লাইম্যাক্সে আমজাদ খানের যে নৃশংস মৃত্যু বাতিল করেছিল সেন্সর, এবার সেটাই ফিরছে পর্দায়

কিতনে আদমি থে”… “ইয়ে হাত মুঝে দে দে ঠাকুর”… এই বোম্বাস্টিক সংলাপ আর ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোরেঙ্গে’র চিরন্তন বন্ধুত্ব—এই সব নিয়েই রমেশ সিপ্পির ‘শোলে’ (Sholay) ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক কালজয়ী মাইলস্টোন। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই হলিউড ধাঁচের মেলোড্রামা-অ্যাকশন ছবিটি বলিউডি মশালা ছবির সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিল। যদিও আশ্চর্যের বিষয় হলো, মুক্তির প্রথম দিকে ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তুলতে ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে মুখে মুখে প্রচার পেয়ে এটি কাল্টে পরিণত হয়।
এই কালজয়ী ছবিটির ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে, আর সেই উপলক্ষ্যে এটি ফের সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে। তবে এবারের কাহিনিতে রয়েছে এক বড় টুইস্ট! এতদিন ধরে দর্শকরা যে ক্লাইম্যাক্স দেখে অভ্যস্ত, এবার তা নয়—বরং মুক্তি পাচ্ছে সেই ‘শোলে আনকাট’ ভার্সন, যা সেন্সর বোর্ডের আপত্তিতে বাতিল হয়েছিল।
সেন্সর বোর্ড কেন বদলেছিল ক্লাইম্যাক্স?
১৯৭৫ সালে যখন ছবিটি সেন্সর সার্টিফিকেটের জন্য CBFC-এর কাছে পাঠানো হয়, তখন সেন্সর কর্তারা ছবির ক্লাইম্যাক্স নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাদের জানানো হয়েছিল, ক্লাইম্যাক্স না বদলালে ছবি মুক্তি দেওয়া যাবে না। বাধ্য হয়েই পরিচালক রমেশ সিপ্পি ও ‘শোলে’ টিম ছবির শেষাংশ নতুন করে সাজিয়েছিলেন।
কী ছিল সেই বাতিল ক্লাইম্যাক্সে?
আসল ক্লাইম্যাক্সে দেখানো হয়েছিল, ঠাকুর অর্থাৎ সঞ্জীব কুমার গব্বর সিংকে (আমজাদ খান) তাঁর জুতোয় আটকানো পেরেক দিয়ে বুকের ওপর দাঁড়িয়ে চেপে চেপে নৃশংসভাবে মেরে ফেলছেন। গব্বরের বুক, পেট ও মুখ থেকে ফোয়ারার মতো রক্ত বের হচ্ছিল। সেন্সর বোর্ড সেই সময় মনে করেছিল, এই ধরনের চরম সহিংসতা (Violence) দেখার মানসিকতা সেই সময়কার ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়নি। তাই সেই ভয়াবহ দৃশ্য বাতিল করে একটি কম নৃশংস ক্লাইম্যাক্স তৈরি করা হয়।
এবার সেই বাতিল ক্লাইম্যাক্সকে সঙ্গে নিয়েই মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য শোলে আনকাট’। শুধু ক্লাইম্যাক্সেই নয়, বহু বাতিল হওয়া দৃশ্যকে সঙ্গে নিয়েই ফের মুক্তি পাচ্ছে বলিউডের এই কালজয়ী ছবি। ছবিটি আগামী ১২ ডিসেম্বর গোটা দেশে মুক্তি পাবে।