আমরণ অনশনকারী মতুয়াদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন অভিষেক! রানি রাসমণি রোডে বিশাল জমায়েতের প্রস্তুতি তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের।

নমঃশূদ্র ও মতুয়াদের নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবি এবং ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশ’ (সার)-এর বিরোধিতায় ঠাকুরবাড়িতে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মতুয়া, গোঁসাই ও দলপতিদের আমরণ অনশন শনিবার ১১ দিনে পড়ল। এই আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর রূপ দিতে আগামী ২৮ ডিসেম্বর কলকাতার রানি রাসমণি রোডে একদিনের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি নিল তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ।

কর্মসূচিতে তৃণমূলের দূরত্ব, শুরু হয়েছে গুঞ্জন
মতুয়াদের দাবি আদায়ে ঠাকুর বাড়িতে একটানা অনশন চললেও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের কোনও প্রথম সারির নেতাকে সেখানে যেতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ও মতুয়া মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর জানিয়েছেন, আজ রবিবার তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল অনশন মঞ্চে আসবেন।

মমতাবালা ঠাকুরের দাবি, শনিবার দুপুরে দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে অনশনকারীদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “রবিবার তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী-সহ দলের এক প্রতিনিধি দল অনশন মঞ্চে আসবেন বলে জানতে পেরেছি।”

অনশন মঞ্চে ডাক্তার ও বিরোধী নেতাদের ভিড়
এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে ইতিমধ্যে ঠাকুর বাড়িতে ঘুরে গিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। এছাড়াও হুগলির বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীও মঞ্চে এসে সমর্থন জানিয়ে যান। যদিও তিনি এই সফরকে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলেই জানিয়েছেন।

শনিবার অনশন মঞ্চে মতুয়া চিকিৎসক সেলের ১৫ জন সদস্য আসেন। তাঁদের মধ্যে ঋতুপর্ণা কয়াল এবং রৌনক হাজারি নামে দুই চিকিৎসক অনশনে যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের জোর বাড়াতে কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও অবস্থান বিক্ষোভ করা যায় কি না, সে বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা করছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ।